নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

ভাতার লাইনে উচ্চশিক্ষিতদের ভিড়: ‘যুব সাথী’ প্রকল্প ঘিরে রাজ্যে উন্মাদনা ও রাজনৈতিক তরজা
নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তরুণ প্রজন্মের মন জয়ে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু করল রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। আগামী ১ এপ্রিল থেকে যোগ্য আবেদনকারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মাসিক ১৫০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছে দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে রবিবার থেকে রাজ্যজুড়ে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক বিশেষ শিবির শুরু হয়েছে।
প্রথম দিনেই এই শিবিরগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্পের সূচনায় ‘অভূতপূর্ব সাড়া’ মিলেছে। তবে ভিড়ের চিত্রটি রাজ্যের বেকারত্বের এক করুণ ছবিও সামনে এনেছে। আবেদনকারীদের লাইনে যেমন দেখা গিয়েছে মাধ্যমিক পাশ করা সাধারণ শ্রমিককে, তেমনই দেখা গিয়েছে স্নাতক যুবতী এমনকি পিএইচডি করা উচ্চশিক্ষিত যুবককেও। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি এই আবেদনকারীদের চোখেমুখে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের কথায়, “বেকার বলে বাড়িতে সারাক্ষণ গঞ্জনা শুনতে হয়। অন্তত এই টাকাটা হাতে থাকলে পকেটমানি বা নিজের ব্যক্তিগত কিছু খরচ চালানো যাবে।” অন্য এক চাকরিপ্রার্থী জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ফর্ম কেনার খরচ মেটাতে এই ১৫০০ টাকা তাঁকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই ভাতার লাইনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও গন্ডগোলের খবরও পাওয়া গিয়েছে। বহু জায়গায় পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার ডিএ (DA) দিতে পারছে না, স্থায়ী কর্মসংস্থান নেই, তাই ভোটের মুখে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। যদিও শাসকদলের দাবি, এই প্রকল্প বিপদে পড়া যুবসমাজের পাশে দাঁড়ানোর একটি আন্তরিক প্রয়াস মাত্র। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর লড়াইয়ের আগে ‘যুব সাথী’ এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।