নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

প্রতিরক্ষায় ঐতিহাসিক মাইলফলক: টাটা ও এয়ারবাসের হাত ধরে ভারতেই তৈরি হবে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার
নয়াদিল্লি: ভারতের বিমান ও প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রথমবার সরকারি গণ্ডি পেরিয়ে বেসরকারি খাতে হেলিকপ্টার তৈরির পূর্ণাঙ্গ কারখানা বা ‘ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন’ (FAL) চালু হলো কর্নাটকের ভেমাগালে। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড এবং ফরাসি সংস্থা এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই কারখানার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। এটিই দেশের প্রথম বেসরকারি কারখানা যেখানে হেলিকপ্টার জোড়া দেওয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে।
লক্ষ্য ৫০০ হেলিকপ্টার:
প্রাথমিকভাবে এই কারখানা থেকে বছরে ১০টি করে হেলিকপ্টার তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের শুরুর দিকেই প্রথম দেশীয় হেলিকপ্টারটি আকাশে ওড়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী দুই দশকে ভারতের চাহিদা মেটাতে অন্তত ৫০০টি হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এই প্রকল্পের। শুধু উৎপাদন নয়, এখানে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির (MRO) সুবিধাও থাকবে, যা কয়েক হাজার দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
H125-এর বিশেষত্ব:
এই কারখানায় তৈরি হবে বিশ্বখ্যাত Airbus H125 হেলিকপ্টার। উল্লেখ্য, এই মডেলটি মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় অবতরণ করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। এটি এক ইঞ্জিনের হেলিকপ্টার, যাতে ১ জন পাইলট ও ৬ জন যাত্রী বসতে পারেন। ঘণ্টায় ২৫০ কিমি বেগে ছুটতে সক্ষম এই কপ্টারটি অত্যধিক গরম এবং উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে (Hot and High) উড়তে বিশেষভাবে পারদর্শী। উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা পরিষেবা ও পর্যটনে এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য।
সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত সংস্করণ:
বেসামরিক ব্যবহারের পাশাপাশি এখানে তৈরি হবে সামরিক সংস্করণ H125M। এটি রকেট, মিসাইল ও উন্নত ডিজিটাল ককপিট সমৃদ্ধ। খুব নিচু দিয়ে উড়ে শত্রুর রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে এটি অনন্য। ভারতের উত্তর সীমান্তের চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ি উচ্চতায় এই কপ্টার মোতায়েন করলে ভারতীয় সেনা বহুগুণ শক্তিশালী হবে। বর্তমানে বিশ্বের ৪৫টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনী এই প্রযুক্তির ওপর ভরসা রাখছে।