নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মার্চ ২০২৬ :

বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ: অন্ধত্ব প্রতিরোধে চোখের ‘নীরব ঘাতক’ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি
কলকাতা: বর্তমান সময়ে চোখের অন্যতম বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্লুকোমা, যাকে সাধারণ ভাষায় ‘কালা মোতিয়া’ বলা হয়। সারা বিশ্বে পালিত হওয়া ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ’ উপলক্ষে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষকে এই রোগের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করছেন। চোখের দৃষ্টিশক্তি হানির ক্ষেত্রে এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে পরিচিত, কারণ প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণগুলো খুব একটা স্পষ্ট হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের উচ্চ চাপ বা ইন্ট্রাওকুলার প্রেসার থেকে এই রোগের উৎপত্তি ঘটে, যা ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে মানুষের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে লোপ পেতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না হলে গ্লুকোমা পুরোপুরি অন্ধত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সতর্কীকরণ লক্ষণ:
চিকিৎসকরা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে চোখের তীব্র ব্যথা, হঠাৎ করে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, আলোর চারপাশে রামধনুর মতো আভা দেখা, এবং মাঝেমধ্যেই মাথাব্যথা হওয়া। যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে অবহেলা না করে অবিলম্বে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যাদের ঝুঁকি বেশি:
সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর গ্লুকোমার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে, যারা উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন অথবা দীর্ঘ সময় ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করছেন, তাদের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা ধরা পড়লে সঠিক ওষুধ বা লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখবেন, হারানো দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে সচেতনতাই পারে অন্ধত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে।