নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৫ মার্চ ২০২৬ :

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ‘সুপার ফ্লু’ H3N2-এর দাপট: সুরক্ষায় নতুন টিকাকরণের ডাক হু-এর
নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে H3N2 ইনফ্লুয়েঞ্জা সংক্রমণ। সাধারণ মরশুমি ফ্লুর তুলনায় এই ভাইরাস অনেক ক্ষেত্রে বেশি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ফ্লু টিকার নতুন সংস্করণে নির্দিষ্টভাবে H3N2 স্ট্রেন অন্তর্ভুক্ত করার জোর সুপারিশ জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সময়মতো টিকাকরণই এখন প্রধান হাতিয়ার।
H3N2 ও তার ভয়াবহতা: চিকিৎসকদের মতে, H3N2 হলো ইনফ্লুয়েঞ্জা A ভাইরাসের একটি শক্তিশালী উপধরন, যা অন্য স্ট্রেনের তুলনায় গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাম্প্রতিক সময়ে এর বাড়বাড়ন্ত একে ‘সুপার ফ্লু’ তকমা দিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের ভয়ংকর ‘হংকং ফ্লু’ মহামারির নেপথ্যেও ছিল এই ভাইরাস, যাতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
টিকাকরণ কেন জরুরি: ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অত্যন্ত দ্রুত নিজেদের জেনেটিক গঠন পরিবর্তন করে। ফলে পুরনো টিকা বা আগের সংক্রমণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কার্যকর থাকে না। হু-এর পরামর্শ অনুযায়ী, নতুন টিকায় ইনফ্লুয়েঞ্জা A (H1N1 ও H3N2) এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা B স্ট্রেন থাকা আবশ্যক। গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্লু টিকা ৫০-৬০ শতাংশ কার্যকর হলেও এটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
কাদের ঝুঁকি বেশি: সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও শিশু, প্রবীণ এবং ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, ৫ বছরের কম বয়সী শিশু, ৬৫ ঊর্ধ্ব ব্যক্তি এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বছর এই টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাস্ক পরা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই টিকাকরণই হতে পারে আগামীর রক্ষাকবচ।