নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৫ মার্চ ২০২৬ :

প্রযুক্তির নেশা না কি মরণফাঁদ? মোবাইল রেডিয়েশন ও আসক্তি নিয়ে সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব প্রতিনিধি: আধুনিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্মার্টফোন। সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতের বিনোদন—সবই এখন ৬-৭ ইঞ্চির স্ক্রিনে বন্দি। কিন্তু এই অতি-নির্ভরতা কি আমাদের অজান্তেই বড় কোনো বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং এর থেকে নির্গত রেডিয়েশন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
রেডিয়েশন ও স্নায়বিক সমস্যা: মোবাইল ফোন মূলত ৩০০ মেগাহার্টজ থেকে ৩০০ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের মাইক্রোওয়েভ রেডিয়েশনের মাধ্যমে কাজ করে। দীর্ঘক্ষণ কানে ফোন চেপে কথা বললে মাথা গরম হওয়া বা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই রেডিয়েশনকে ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেনিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও ক্যানসারের সরাসরি প্রমাণ এখনো সীমিত, তবুও উচ্চ কম্পাঙ্কের এই তরঙ্গ স্নায়ুকে উত্তেজিত করে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে।
শারীরিক ও চোখের জটিলতা: একটানা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে কমবয়সিদের মধ্যে মায়োপিয়া বা ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা বাড়ছে। অন্ধকার ঘরে ফোন ব্যবহারের ফলে রেটিনার ওপর মারাত্মক চাপ পড়ছে। শুধু চোখ নয়, অতিরিক্ত টাইপিং বা স্ক্রলিংয়ের কারণে আঙুলের টেন্ডনে প্রদাহ এবং কব্জিতে ব্যথার মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এছাড়া, ঘুমের আগে ফোনের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দিচ্ছে, যা অনিদ্রা ও মানসিক অবসাদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ত্বক ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: ফোনের স্ক্রিন মুখের খুব কাছে রাখলে ত্বকে র্যাশ বা ব্রণ হতে পারে। এমনকি কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী রেডিয়েশন এক্সপোজারের ফলে পুরুষের শুক্রাণুর ঘনত্ব হ্রাসের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকদের মতে, প্রযুক্তিকে বর্জন নয় বরং সচেতন ব্যবহারই সমাধান। কথা বলার সময় স্পিকার বা ব্লুটুথ ব্যবহার করা, প্রতি ২০ মিনিট অন্তর স্ক্রিন থেকে চোখ সরানো এবং ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। নিয়ন্ত্রণ যেন যন্ত্রের হাতে না গিয়ে মানুষের হাতেই থাকে, সেটাই এখন সময়ের দাবি।