নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মার্চ ২০২৬ :

গরমেও ত্বকের জেল্লা ধরে রাখতে বডি অয়েলের ম্যাজিক: জেনে নিন সঠিক ব্যবহারের কৌশল
গ্রীষ্মের দাবদাহেও ত্বকের সতেজতা ফেরাবে বডি অয়েল: পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঙালির কাছে শীতকাল মানেই বডি অয়েল বা গায়ে তেল মাখার ধুম। কিন্তু গরমকাল আসতেই চটচটে ভাবের ভয়ে আমরা তেল থেকে দূরে সরে যাই। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের প্রয়োজনীয়তা কেবল শীতকালে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তীব্র গরমে এসি, ঘাম এবং ধুলোবালির কারণে ত্বক যে স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়, তা ফিরিয়ে দিতে পারে একমাত্র সঠিক বডি অয়েল মাসাজ।
অনেকেই গরমকালে তেলের বদলে জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার বা বডি মিল্কের দিকে ঝোঁকেন। তবে তেলের গুণাগুণ কেবল ত্বকের কোমলতা বজায় রাখতেই সীমাবদ্ধ নয়। সঠিক পদ্ধতিতে তেল মালিশ করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং ক্লান্তি দূর হয়। বিশেষ করে যারা দিনের দীর্ঘ সময় এসির নিচে কাটান, তাদের ত্বকে অকাল বার্ধক্য বা বলিরেখা পড়ার ঝুঁকি থাকে। সঠিক অয়েল মাসাজ ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং নবযৌবন ফিরিয়ে দেয়।
তবে গরমকালে সব তেল সমান উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞরা তিনটি তেলের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন:
১. বাদাম তেল: ভিটামিন এ, ই এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই তেল ত্বকের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফেরাতে কার্যকর। এটি কিছুটা ঘন হওয়ায় নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা ভালো।
২. চন্দন তেল: এর প্রাকৃতিক সুবাস স্নায়ুকে শান্ত করে। এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ত্বককে সংক্রমণ ও জ্বালাভাব থেকে রক্ষা করে। নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে এটি মাখা যেতে পারে।
৩. নারকেল তেল: ভিটামিন ই ও ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর এই তেল একেবারেই চটচটে নয়। স্নানের আগে এটি মেখে কিছুক্ষণ পর ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করলে ত্বক দীর্ঘক্ষণ কোমল ও লাবণ্যময় থাকে।
বর্তমানে আধুনিক প্রসাধনী সামগ্রীর ভিড়ে তেলের গুরুত্ব কমলেও, দীর্ঘমেয়াদী সুফলের জন্য বডি অয়েলের কোনো বিকল্প নেই। তাই গরমেও ত্বকের শুষ্কতা রুখতে এবং উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে নিয়মিত তেল মালিশের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।