নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৭ মার্চ ২০২৬ :

কিডনির সমস্যায় চোখের ইশারা: অবহেলা করলেই বিপদ
শরীর সুস্থ রাখতে কিডনি ছাঁকনির মতো কাজ করে। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে বিষমুক্ত রাখাই এর প্রধান কাজ। কিন্তু কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে তা সবসময় সরাসরি প্রস্রাবের সমস্যার মাধ্যমে ধরা পড়ে না। অনেক সময় আমাদের চোখ ও মুখ দেখেই বোঝা সম্ভব যে কিডনি বিপদে আছে। চিকিৎসকদের মতে, চোখ এবং জিভ দেখে শরীরের অভ্যন্তরীণ অনেক জটিলতা আঁচ করা যায়।
কিডনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হার্দিক পটেলের মতে, প্রস্রাবের সমস্যার বাইরেও চোখের চারপাশে ফোলা ভাব কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘পেরিঅরবিটাল পাফিনেস’। সাধারণত সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই ফোলা ভাব বেশি নজরে আসে। সারাদিন হাঁটাচলা করলে মাধ্যাকর্ষণের টানে চোখের নিচের সেই জমা তরল পায়ের দিকে নেমে যায়, ফলে দিনের শেষে চোখের ফোলা ভাব কিছুটা কমে।
কেন এমন হয়?
কিডনি যখন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তখন শরীর থেকে ‘অ্যালবুমিন’-এর মতো প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে শুরু করে। এই প্রোটিন শরীর ধরে রাখতে না পারায় টিস্যুগুলোতে তরল জমতে শুরু করে, যা চোখের চারপাশে ফোলা ভাব তৈরি করে।
অন্যান্য উপসর্গ:
শুধু চোখ ফোলাই নয়, কিডনির সমস্যার সঙ্গে আরও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে:
প্রস্রাবে অত্যধিক ফেনা হওয়া বা জ্বালাপোড়া।
সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করা।
রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
পায়ের পাতা বা গোড়ালি ফুলে যাওয়া।
অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, অনিদ্রা বা পানিশূন্যতার কারণেও চোখ ফুলতে পারে। তবে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো শনাক্ত না হলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।