ঘামেই লুকিয়ে বিপদের সংকেত: কখন সাধারণ ঘাম হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী? The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২১ মার্চ ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি: গরম বা শারীরিক পরিশ্রমে ঘাম হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু আপনি কখন, কোথায় এবং কীভাবে ঘামছেন—তার সূক্ষ্ম পরিবর্তনই হতে পারে শরীরের কোনো গভীর সমস্যার পূর্বাভাস। চিকিৎসকদের মতে, শরীর অকারণে কিছু করে না। আমরা অনেক সময় ঘামকে গুরুত্ব দিই না, অথচ সঠিক সময়ে এই লক্ষণগুলো খেয়াল করলে বড় ধরনের শারীরিক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সব ঘাম একরকম নয়। আমাদের স্নায়ুতন্ত্র, হরমোন এবং শরীরের তাপমাত্রা ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে। যদি হঠাৎ করে আপনার ঘামের স্বাভাবিক ধরন বদলে যায়, তবে তা চিন্তার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘রাতের ঘাম’ বা রাতে ঘুমানোর সময় ঘেমে বিছানা ভিজে যাওয়া মোটেও স্বাভাবিক নয়। এর সঙ্গে যদি জ্বর, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা থাকে, তবে তা কোনো সংক্রমণ বা হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো ‘ঠান্ডা ও চিটচিটে ঘাম’। কোনো পরিশ্রম ছাড়াই যদি হঠাৎ শরীর ঠান্ডা হয়ে ঘামতে শুরু করে, তবে তা হার্ট অ্যাটাক বা রক্তে শর্করার মাত্রা (Sugar level) মারাত্মক কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ঘাম হওয়াও বিশেষ অর্থ বহন করে। যেমন—হাতের তালু বা পায়ের পাতা ঘামা অতিরিক্ত মানসিক উদ্বেগের লক্ষণ, আবার শরীরের একপাশে বেশি ঘাম হওয়া স্নায়বিক সমস্যার সংকেত দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হঠাৎ অকারণে ঘাম, ঘামের সঙ্গে বুকে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। শরীর সবসময়ই সংকেত দেয়, প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে তা বুঝে সচেতন হওয়া।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!