আইসক্রিম খেলে কমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি? গবেষণার চমকপ্রদ তথ্যে বিস্মিত খোদ চিকিৎসকরাও! | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মার্চ ২০২৬ :

মিষ্টিতেও মুক্তি? আইসক্রিম আর ডায়াবেটিসের রহস্যময় সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড়
নিজস্ব প্রতিবেদক: আইসক্রিম মানেই জিভে জল আনা স্বাদ আর মন ভালো করা এক অনুভূতি। তবে স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে এটি বরাবরই ‘নিষিদ্ধ’ খাবারের তালিকায় শীর্ষে। চিনি আর ফ্যাটের আধিক্যের কারণে একে ডায়াবেটিসের শত্রু মনে করা হলেও, সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরছে। গবেষকরা দাবি করছেন, পরিমিত আইসক্রিম খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সূত্রপাত হয় ২০০০ সালের শুরুর দিকে হৃদ্‌রোগ সংক্রান্ত একটি গবেষণা থেকে। সেখানে দেখা যায়, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সিনড্রোম’ বা ডায়াবেটিসের পূর্ববর্তী ধাপের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। অবাক করার মতো বিষয় হলো, সাধারণ দুধের তুলনায় ‘ডেয়ারি ডেজার্ট’ বা আইসক্রিম খাওয়ার ফলে এই ঝুঁকি কমার হার প্রায় দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার পুরুষের ওপর পরিচালিত এক গবেষণাতেও দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে অন্তত দুবার আইসক্রিম খান, তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মাসে একবার আইসক্রিম খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক কম।
এই ফলাফলের পেছনে গবেষকরা বেশ কিছু যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। প্রথমত, আইসক্রিমে থাকা ফ্যাট ও প্রোটিনের কারণে এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (GI) তুলনামূলক কম, ফলে এটি রক্তে শর্করা খুব দ্রুত বাড়ায় না। দ্বিতীয়ত, দুধের ফ্যাটের ওপর থাকা ‘মিল্ক-ফ্যাট গ্লোবিউল মেমব্রেন’ নামক স্তরটি আইসক্রিমে অক্ষত থাকে, যা মানুষের বিপাকক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে চিকিৎসকরা একে ‘সবুজ সংকেত’ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের মতে, এখানে ‘রিভার্স কজেশন’ কাজ করতে পারে; অর্থাৎ যারা আগে থেকেই সুস্থ তারা নির্দ্বিধায় আইসক্রিম খান, অন্যদিকে যাদের ঝুঁকি আছে তারা আইসক্রিম এড়িয়ে চলেন। এছাড়া ওজনের ভয়ে অনেকেই সঠিক তথ্য গবেষণায় দেন না। তাই আইসক্রিমকে ডায়াবেটিসের ওষুধ ভাবা হবে চরম ভুল। তবে দুগ্ধজাত পণ্যের এই জটিল রহস্য বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!