নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ মার্চ ২০২৬ :

রঙের উৎসবে বিষাদের ছায়া: রাসায়নিক রঙে বিপন্ন হতে পারে আপনার ত্বক ও চোখ
বসন্তের আগমনে প্রকৃতি যখন রঙিন, ঠিক তখনই দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে রঙের উৎসব দোল বা হোলি। তবে উৎসবের এই আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে যদি আমরা রঙের ব্যবহারে সচেতন না হই। বর্তমান বাজারে প্রচলিত সস্তা আবির ও তরল রঙে মিশে থাকছে ক্ষতিকারক সিসা, পারদ, অ্যালুমিনিয়াম ব্রোমাইড এবং অ্যাসবেস্টসের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান।
ত্বক ও চুলের ক্ষতি
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক যুক্ত রঙ সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে একজিমা, কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস এবং তীব্র চুলকানি হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে র্যাশ বা ফোসকা পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া কড়া রঙ চুলের প্রাকৃতিক তেল শুষে নিয়ে চুলকে রুক্ষ ও প্রাণহীন করে দেয়, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী চুল পড়ার সমস্যা তৈরি হয়।
চোখের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি
রঙ খেলার সময় অসাবধানতাবশত চোখে রঙ ঢুকে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। রাসায়নিক কণা চোখের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার ফলে কনজাংটিভাইটিস বা সাময়িক অন্ধত্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সিন্থেটিক রঙের গুঁড়ো ফুসফুসে প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
সতর্কতা ও প্রতিকার
চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রঙ খেলার আগে সারা শরীরে এবং চুলে ভালো করে নারিকেল তেল বা ময়েশ্চারাইজার মেখে নেওয়া উচিত। এতে ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়। রাসায়নিক রঙের পরিবর্তে ভেষজ আবির বা বাড়িতে তৈরি প্রাকৃতিক রঙ (যেমন হলুদ বা পলাশ ফুলের রঙ) ব্যবহার করাই শ্রেয়। উৎসব শেষে রঙ তোলার জন্য কড়া সাবান ব্যবহার না করে উপটান বা ক্লিনজিং মিল্ক ব্যবহার করা নিরাপদ। শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। আনন্দ যেন নিরানন্দের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখাই এবারের হোলির মূল মন্ত্র হওয়া উচিত।