নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ :
তীব্র গরমে নাজেহাল বাংলা: শুধু হিটস্ট্রোক নয়, অভ্যন্তরীণ অঙ্গও বিপদে।
এপ্রিল মাসের শুরুতেই ভ্যাপসা গরম আর তীব্র তাপপ্রবাহে (Heatwave) নাজেহাল অবস্থা বাংলা সহ গোটা উত্তর ভারতের। আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। এই পরিস্থিতিতে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর খবরও আসছে। শিশুরাও এই চরম আবহাওয়ায় ভীষণভাবে ভোগান্তির শিকার। তবে বিশেষজ্ঞরা এক নতুন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন—তাপপ্রবাহ শুধু হিটস্ট্রোকেরই কারণ নয়, এটি সরাসরি আঘাত হানে আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন লিভার, পাকস্থলী, হার্ট এবং পেশিতে।
চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পার করে গেলে সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তীব্র গরমে শরীরের প্রথম সমস্যা হয় ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা। বাইরের প্রচণ্ড তাপে শরীরের হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে পেট খারাপ, বমি এবং ঘন ঘন হজমের গোলমাল দেখা দেয়। এই সময় বাইরের খাবার বা জাঙ্ক ফুড খেলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। এমনকী, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে টাইফয়েড হওয়ার নজিরও মিলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোদে বেশি হাঁটাহাঁটি, দৌড়াদৌড়ি বা একটানা কাজ করলে শরীরের জল দ্রুত শুকিয়ে যায়। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং বাইরের তাপের সঙ্গে ভেতরের তাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে শুরুতে অস্বস্তি ও শরীর আনচান করতে থাকে। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত জল বা ফলের রস না খেলে বা ঠাণ্ডা জায়গায় বিশ্রাম না নিলে দমবন্ধ ভাব শুরু হয়। শরীর বুঝিয়ে দেয় সে আর তাপ সহ্য করতে পারছে না। এরপর দরদর করে ঘাম, আচমকা চোখে অন্ধকার দেখা বা ‘ব্ল্যাক আউট’ এবং জ্ঞান হারানোর মতো ঘটনা ঘটে।
তাপদাহে পেশির শক্তিও কমতে থাকে, দেখা দেয় অসহ্য যন্ত্রণা বা ‘হিট ক্র্যাম্প’। রক্তে জলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রক্ত ঘন হতে শুরু করে এবং মাথায় রক্তচাপ বাড়ে। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও রক্তচাপের সামঞ্জস্য নষ্ট হওয়ায় স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। বয়স্ক, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগীদের জন্য এই ঝুঁকি আরও বেশি।
হার্টের রোগীদের জন্য এই গরম অত্যন্ত বিপজ্জনক। কার্ডিওলজিস্টরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত ঘামের ফলে শরীর থেকে জল ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে গিয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে। তা ছাড়া, গরমে হজমের গোলমাল বা বদহজমও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে। রোদে তেতেপুড়ে এসে সঙ্গে সঙ্গে এসি-তে ঢোকা একেবারেই উচিত নয়। এতে বিনবিনে ঘাম, অস্বস্তি, রক্তচাপ বৃদ্ধি এবং শেষে হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে।