নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

অ্যাটাকের আগে শরীর দেয় আগাম সতর্কবার্তা: লক্ষণ চিনতে দেরি করলেই ঘনিয়ে আসতে পারে মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদন: হার্ট অ্যাটাক মানেই আমরা মনে করি আচমকা ঘটে যাওয়া কোনো বিপর্যয়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগেই শরীর নানাভাবে বিপদের সংকেত পাঠাতে শুরু করে। কিন্তু সাধারণ ক্লান্তি বা গ্যাসের সমস্যা ভেবে সেই লক্ষণগুলো আমরা এড়িয়ে যাই, আর সেখানেই ঘটে যায় চরম বিপর্যয়।
কী ঘটে শরীরের ভেতরে?
চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচলের পথ বা করোনারি ধমনী যখন সরু হতে শুরু করে, তখনই সমস্যার সূত্রপাত। ধমনীতে জমে থাকা চর্বি বা প্লাক অস্থির হয়ে পড়লে রক্তপ্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়। এর ফলে হৃদপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়, যা শরীরকে আগাম সতর্ক করতে বাধ্য করে।
যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাওয়া বিপজ্জনক:
অস্বাভাবিক ক্লান্তি: কোনো পরিশ্রম ছাড়াই শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগলে সতর্ক হন। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান উপসর্গ।
বুকে অস্বস্তি: সবসময় তীব্র ব্যথা হবে এমন নয়। বুকে হালকা চাপ ধরা ভাব, জ্বালা বা ভারী বোধ হওয়া হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস হতে পারে।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ব্যথা: শুধু বুক নয়, চোয়াল, ঘাড়, পিঠ কিংবা বাম হাতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়া বিপদের লক্ষণ।
অন্যান্য উপসর্গ: শ্বাসকষ্ট, ঘুমের সমস্যা, বমি ভাব কিংবা হজমের গোলমালকে সাধারণ অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করবেন না।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও স্থূলতা, ধূমপানের অভ্যাস এবং শরীরচর্চার অভাব হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই ধরনের ছোটখাটো অস্বস্তি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত ইসিজি (ECG) বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো পদক্ষেপই পারে একটি অমূল্য প্রাণ বাঁচাতে।