নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২ মার্চ ২০২৬ :

ক্ষত নিরাময়ে ঘি-এর জাদুকরী শক্তি: বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদের মেলবন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব কমেনি। বিশেষ করে পোড়া ক্ষত বা গভীর ক্ষত নিরাময়ে ‘ঘি’ বা ‘clarified butter’-এর কার্যকারিতা আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে একে ‘মহৌষধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, বর্তমান গবেষণা বলছে ঘি-তে থাকা বিশেষ কিছু উপাদান কোষের পুনর্গঠনে অভাবনীয় ভূমিকা রাখে।
কেন ঘি এত কার্যকর?
ঘি-তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন A, D, E ও K। তবে ক্ষত সারানোর প্রধান কারিগর হলো এর মধ্যে থাকা বিউটিরিক অ্যাসিড (Butyric acid)। এটি শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এছাড়া ঘি একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে, যা ক্ষতস্থানকে শুকিয়ে শক্ত হতে দেয় না। ফলে ব্যথার তীব্রতা কমে এবং চামড়ায় দাগ পড়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
ব্যবহারের পদ্ধতি:
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশুদ্ধ দেশি গরুর ঘি সামান্য গরম করে পরিষ্কার তুলোর সাহায্যে ক্ষতস্থানে লাগালে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে হালকা পুড়ে যাওয়া স্থানে ঘি লাগালে জ্বালাপোড়া তৎক্ষণাৎ প্রশমিত হয়। এছাড়া মধুর সাথে ঘি মিশিয়ে লাগালে তা শক্তিশালী অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে, যা ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়ক।
তবে মনে রাখতে হবে, ঘি শুধুমাত্র বাহ্যিক ক্ষত বা সাধারণ পোড়ার জন্য কার্যকর। ক্ষত যদি অত্যন্ত গভীর হয় বা ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ঘরোয়া এই টোটকা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ওষুধের নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবেই সুস্থ থাকা সম্ভব।