আনমনে নখ কামড়ানোর আপাত নিরীহ অভ্যাস ডেকে আনতে পারে পচন বা ‘গ্যাংগ্রিন’, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৮ মার্চ ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি: দাঁত দিয়ে ঘন ঘন নখ কামড়ান? অবসরে হোক বা কাজের মাঝে, আনমনে নখ কামড়ানোর এমন দৃশ্য অতি পরিচিত। অনেকের কাছে এটি একটি নিছক অভ্যাস, অন্যদের কাছে বিরক্তির কারণ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এই আপাত নিরীহ অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে চিরস্থায়ী পঙ্গুত্ব। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন যে, নখ কামড়ানোর এই প্রবণতা, যা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘ডার্মাটোফেজিয়া’ নামে পরিচিত, তা শেষ পর্যন্ত পচন বা গ্যাংগ্রিনের রূপ নিতে পারে।
কেন এই মারণ নেশা?
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, নখ কামড়ানো আসলে ‘বডি-ফোকাসড রিপিটেটিভ বিহেভিয়ার’ বা বিএফআরবি-র অংশ। যখন কোনও ব্যক্তি তীব্র উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা অবসাদে ভোগেন, তখন মস্তিষ্ককে শান্ত করার জন্য নিজের অজান্তেই নখ দাঁতের ডগায় চলে যায়। এটি এক ধরনের ‘অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার’ বা ওসিডি-র পর্যায়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে এই প্রবণতাকে সামান্য মনে হলেও, এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ।
সংক্রমণের নীল নকশা ও গ্যাংগ্রিনের আশঙ্কা
নখ কামড়ানোর ফলে আঙুলের চারপাশের চামড়া ছিঁড়ে যায়। লালার মাধ্যমে মুখ গহ্বরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া সেই ক্ষত দিয়ে সরাসরি রক্তে মেশে। এর ফলে ‘প্যারোনিচিয়া’ বা নখের কোণে পুঁজ জমার মতো সংক্রমণ তৈরি হয়। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই সংক্রমণ যদি নখের নিচের নরম অংশ বা ‘নেল বেড’ নষ্ট করে দেয়, তবে নখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। আরও ভয়ের বিষয় হল, এই সংক্রমণ হাড়ের গভীরে পৌঁছালে সেখানে পচন বা ‘গ্যাংগ্রিন’ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। গ্যাংগ্রিন হলে আক্রান্ত আঙুলটি কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় অনেক সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
মুক্তির উপায় কী?
এই মারণ অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে প্রথমেই প্রয়োজন মানসিক স্থিরতা। চিকিৎসকরা নিয়মিত প্রাণায়াম বা শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিচ্ছেন যা মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে:
১) নখ সব সময় খুব ছোট করে ছেঁটে রাখুন।
২) নখের ডগায় তেতো স্বাদের নিরাপদ প্রলেপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩) অত্যধিক দুশ্চিন্তা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা থেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
সামান্য অসতর্কতা আপনার শরীরের একটি অঙ্গ কেড়ে নিতে পারে। তাই নখ কামড়ানোর এই অভ্যাসকে শুধুমাত্র ‘ছেলেমানুষি’ ভেবে এড়িয়ে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!