নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৩০ মার্চ ২০২৬ :

মেডিকেল ডেস্ক: টাইপ-২ ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় দশকের পর দশক ধরে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ‘মেটফর্মিন’ (Metformin)। সাধ্যের মধ্যে দাম এবং কার্যকর ফলাফলের জন্য চিকিৎসকরা চোখ বন্ধ করে এই ওষুধ লিখে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি বিখ্যাত জার্নাল ‘Science Advances’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা এই ওষুধের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মেটফর্মিন শুধুমাত্র রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে না, বরং এটি সরাসরি মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালীর ওপরও প্রভাব ফেলে।
গবেষণায় কী উঠে এল?
এতদিন ধারণা ছিল, এই ওষুধ মূলত যকৃৎ, অন্ত্র এবং অগ্ন্যাশয়ের ওপর কাজ করে বিপাকক্রিয়ার উন্নতি ঘটায় এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, মেটফর্মিন মস্তিষ্কের Rap1 নামের একটি প্রোটিনকে দমিয়ে রাখে এবং বিপাকক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নির্দিষ্ট কিছু নিউরনকে (SF1) অতি-সক্রিয় করে তোলে। এমনকি ওষুধের খুব সামান্য প্রয়োগেও মস্তিষ্কের এই পরিবর্তনের কারণে রক্তে শর্করা দ্রুত কমে যেতে পারে। অর্থাৎ, মেটফর্মিনের শর্করা কমানোর ক্ষমতার একটি অংশ মস্তিষ্কের মাধ্যমেই চালিত হয়।
জটিল প্রভাব: ইতিবাচক নাকি নেতিবাচক?
মস্তিষ্কের ওপর এই ওষুধের প্রভাব অত্যন্ত জটিল। পশুদের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় মেটফর্মিন ব্যবহারের ফলে স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং মস্তিষ্কের শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। মানুষের ক্ষেত্রেও মিশ্র প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ডেমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রম) ঝুঁকি কমায় এবং চেতনাশক্তি বাড়ায়। আবার অন্য কিছু গবেষণায়, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে, জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা (Cognitive Function) হ্রাস পাওয়ার নজির মিলেছে।
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই:
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই নতুন তথ্যে রোগীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মেটফর্মিনের দীর্ঘমেয়াদি সুফল এবং ঝুঁকি নিয়ে আরও অনেক গবেষণার প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ করে এই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। মেটফর্মিনের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন—বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা পেটে অস্বস্তি সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল। বিরল ক্ষেত্রে এটি ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি বা প্রাণঘাতী ‘ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস’-এর কারণ হতে পারে।
তাই ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং শরীরে কোনো নতুন বা অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত তা চিকিৎসককে জানানো।