প্রকৃতির মহৌষধ “শ্রী ফল” বেল: গরমে সুস্থ থাকার শ্রেষ্ঠ দাওয়াই | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ মার্চ ২০২৬ :

প্রকৃতির মহৌষধ “শ্রী ফল” বেল: গরমে সুস্থ থাকার শ্রেষ্ঠ দাওয়াই

তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন এক গ্লাস ঠান্ডা বেলের শরবত যেন তপ্ত মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো প্রশান্তি বয়ে আনে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বেলকে বলা হয় ‘শ্রীফল’ বা শ্রেষ্ঠ ফল। কেবল স্বাদ নয়, এর অসাধারণ ঔষধি গুণাগুণের জন্য বেল এখন পুষ্টিবিদদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে।
পুষ্টির ভাণ্ডার
বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C, A এবং বি-কমপ্লেক্স। এছাড়া এতে আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান, যা হাড় মজবুত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে প্রায় ১৪০ ক্যালরি শক্তি থাকে, যা তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করতে সক্ষম।
পেটের সমস্যার স্থায়ী সমাধান
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য বেল একটি প্রাকৃতিক মহৌষধ। বেলের ল্যাক্সেটিভ গুণ পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং অন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত বেলের শরবত খেলে আলসার ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। এছাড়া ডায়রিয়া বা আমাশয় নিরাময়ে কাঁচা বেল পুড়িয়ে বা সিদ্ধ করে খাওয়ার প্রচলন বহু পুরনো।
ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ প্রতিরোধে
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বেলের নির্যাসে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বেলের ট্যানিন ও ফ্লেভোনয়েড উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারচলতি কৃত্রিম পানীয় বা কার্বোনেটেড ড্রিংকস শরীরকে সাময়িক ঠান্ডা করলেও তা কিডনি ও লিভারের জন্য ক্ষতিকর। তার পরিবর্তে দেশি ফল বেলের শরবত পান করা অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। তবে অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে বেলের শরবত খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই গ্রীষ্মে নিজেকে তরতাজা রাখতে প্রকৃতির এই শ্রেষ্ঠ উপহারের ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!