নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

নারী স্বাস্থ্যে চরম অবহেলা ডেকে আনতে পারে বিপদ: জেনে নিন ৫ ধরনের গাইনোলজিক্যাল ক্যান্সার ও তার লক্ষণ
নিজস্ব প্রতিনিধি: আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির পরেও বিশ্বজুড়ে নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইনোলজিক্যাল ক্যান্সার। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগটি মূলত মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সঠিক সচেতনতার অভাবে এবং সামাজিক জড়তার কারণে এই রোগটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে, যখন চিকিৎসার সুযোগ খুব কম থাকে। শরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে ছোট মনে করে অবহেলা করাই এই ঝুঁকির মূল কারণ।
প্রধান ৫ প্রকার গাইনোলজিক্যাল ক্যান্সার:
চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী মূলত পাঁচ ধরনের গাইনোলজিক্যাল ক্যান্সার দেখা যায়:
১. সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার (জরায়ুমুখের ক্যান্সার)
২. ওভারিয়ান ক্যান্সার
৩. ইউটেরাইন ক্যান্সার (জরায়ুর ক্যান্সার)
৪. ভ্যাজাইনাল ক্যান্সার
৫. ভালবার ক্যান্সার।
লক্ষণ যা এড়িয়ে যাবেন না:
বিশেষজ্ঞরা ৫টি বিশেষ উপসর্গের কথা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন:
অস্বাভাবিক রক্তপাত: পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর যোনিপথে রক্তপাত অথবা অস্বাভাবিক সাদা স্রাব জরায়ুমুখের ক্যান্সারের বড় লক্ষণ।
তলপেটে ব্যথা: পেলভিক এরিয়া বা তলপেটে দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি ও ক্রমাগত ব্যথা অনুভব করা বিপদের সংকেত হতে পারে।
চুলকানি ও জ্বালাপোড়া: যোনিদ্বার বা তার আশেপাশে একটানা চুলকানি, লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হওয়া মূলত ভালবার ক্যান্সারের পূর্বলক্ষণ।
মূত্রাশয়ে সমস্যা: হঠাৎ করে প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা ঘনঘন প্রস্রাবের বেগ আসা নির্দেশ করে যে টিউমার মূত্রাশয়ে চাপ দিচ্ছে।
হজমে গোলমাল ও কোমর ব্যথা: অনেকদিন ধরে পেট ফাঁপা, হজমে সমস্যা এবং পিঠের নিচের অংশে বা কোমরে ব্যথা ওভারিয়ান ক্যান্সারের ইঙ্গিত হতে পারে।
সতর্কতা: চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলো দেখা দেওয়া মানেই যে ক্যান্সার, তা সবসময় ঠিক নয়; এটি অন্য কোনো সাধারণ সমস্যাও হতে পারে। তবে ঝুঁকি এড়াতে লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং (যেমন প্যাপ স্মিয়ার) করানো অত্যন্ত জরুরি।