গোয়ায় নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ২৫ জনের মৃত্যু
নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ :
গোয়ার উত্তরাঞ্চলের আর্পোরা অঞ্চলে অবস্থিত জনপ্রিয় নাইটক্লাব ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’-এ শনিবার মধ্যরাত্রির কিছু পরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ক্লাবের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ফলে আগুন লেগে যায়, যা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদের মধ্যে ৪ জন পর্যটক এবং ১৪ জন ক্লাবের কর্মী রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসমেন্টে ফেঁসে যায় এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরোধে মারা যান।
ঘটনার সময় ক্লাবে শতাধিক পর্যটক উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকে প্রথম তলায় ডিজে পার্টিতে মেতে ছিলেন। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে লোকজন চিৎকার করে বেরোতে শুরু করেন, কিন্তু ধোঁয়া ও আগুনের কারণে অনেকে পথ ভুলে ফেঁসে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “আকাশ ছুঁয়ে উঠেছিল লেলিহান শিখা, ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।” ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশ দল রাতভর অভিযান চালিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
গোয়া মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, “আজ গোয়ার জন্য খুবই কষ্টের দিন। এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যাতে ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।” তিনি অভিযোগ করেন যে ক্লাবে ফায়ার সেফটি নিয়ম মেনে চলা হয়নি—দরজাগুলো জটিল, ভেন্টিলেশন অপর্যাপ্ত এবং জরুরি প্রস্থানপথ বন্ধ ছিল।
ক্লাবের মালিক ও জেনারেল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হবে। একটি বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ফায়ার নিরাপত্তা এবং ভবন নিয়মের লঙ্ঘনের খতিয়ে দেখা হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এক্সগ্রেশিয়া ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, “উত্তর গোয়ায় এই ত্রাসদীপক অগ্নিকাণ্ডে মূল্যবান জীবনহানির জন্য গভীরভাবে দুঃখিত।” কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এটিকে “নিরাপত্তা ও শাসনের অপরাধমূলক ব্যর্থতা” বলে অভিহিত করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
গোয়া, পর্যটনের কেন্দ্রস্থল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত, এবারও বারবার ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার হয়েছে, যদিও কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন যে তদন্তের পর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনও মর্গে পরিবারের লোকেরা তাদের আত্মীয়দের খোঁজে অপেক্ষা করছেন, বিশেষ করে ঝাড়খণ্ডের শ্রমিক পরিবারগুলো।