নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

নির্ভুল নিশানায় ‘গেম চেঞ্জার’! স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ৩২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ভারতের
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম: আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে পরিচিত দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘স্ক্যাল্প’-এর ক্ষমতা আরও বাড়াচ্ছে ভারত। সম্প্রতি ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (DAC) বৈঠকে ৩২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই ইউক্রেনীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা প্রমাণ করেছে।
গত বছর প্রথমবার রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালাতে ইউক্রেনীয় সেনা এই স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে তাক লাগিয়ে দেয়। এরপরই ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ এই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণ করে। পহেলগাঁও সন্ত্রাসের জবাবে গত ৭ মে রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানগুলি পাকিস্তানের তিন সন্ত্রাসবাদী ঠিকানায় মাত্র ২৫ মিনিটের এই অপারেশনে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল স্ক্যাল্প এবং প্রিসিশন গাইডেড বোমা হ্যামারকে।
ইউরোপীয় দুনিয়ায় ‘স্টর্ম শ্যাডো’ নামে পরিচিত এই ‘আকাশ থেকে ভূমি’ (এয়ার টু সারফেস) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে। টার্বোজেট ইঞ্জিনযুক্ত ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রে রয়েছে তিন ধরনের অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম, যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু স্থির করে আঘাত হানতে সক্ষম। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দিনে-রাতে এবং সব ধরনের প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সমানভাবে কার্যকর। শুধু তা-ই নয়, শক্ত বাঙ্কার ভেদ করে উড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের।
স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের আরও একটি কৌশলগত দিক হলো, যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়ার সময় এটি খুব নিচু দিয়ে উড়ে যায়, ফলে শত্রুদের রাডারে এটিকে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৌশলগত এবং কার্যকরী দিক থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ভারতের এই বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।