গোলকিপারের উত্থিত বুট বুকে লেগে দ্বাদশ পড়ুয়া ফুটবলারের মর্মান্তিক মৃত্যু | The 4th Column

গোলকিপারের উত্থিত বুট বুকে লেগে দ্বাদশ পড়ুয়া ফুটবলারের মর্মান্তিক মৃত্যু | The 4th Column
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৯ আগষ্ট ২০২৫ :-

প্রতীকী ছবি

2004 সালের 5 ডিসেম্বর, ভারতীয় ফুটবল ইতিহাসের এক কালো দিন। বেঙ্গালুরুতে ফেডারেশন কাপ ফাইনাল চলাকালীন ডেম্পো গোয়ার স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের আকস্মিক মৃত্যু ক্রীড়াজগতকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মোহনবাগানের গোলকিপার সুব্রত পালের সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে আঘাত পেয়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। সেই মর্মান্তিক ঘটনা যেন আবারও ফিরে এল মালদায়।
মালদায় ফুটবল মাঠে ফের দুর্ঘটনা: বুকে আঘাত লেগে কিশোর ফুটবলারের মৃত্যু
মালদা: ফুটবল মাঠে ফের ঘটল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা ২০০৪ সালে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের মৃত্যুর সেই দুঃসহ স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে। মালদার ইংরেজবাজার ব্লকের নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া হাই-মাদ্রাসার মাঠে ফুটবল খেলতে গিয়ে বুকে আঘাত পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮ বছরের এক তরুণ ফুটবলার মনিরুল ইসলামের। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া একটি প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বুধিয়া হাই-মাদ্রাসার দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মনিরুল, প্রতিপক্ষের গোলকিপারের বুটের আঘাতে গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, দ্বিতীয় অর্ধে মনিরুল যখন গোল করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন গোলকিপারের সঙ্গে সংঘর্ষে তার বুকে আঘাত লাগে। সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে থাকে। প্রাথমিকভাবে কেউ আঘাতের ভয়াবহতা বুঝতে না পারলেও, দীর্ঘক্ষণ তার সাড়া না মেলায় সন্দেহ হয়। দ্রুত তাকে মালদা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মনিরুলের বাবা হাসান আলি, পেশায় দিনমজুর, ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, ছেলে ফুটবল ভালোবাসত এবং তারা সবসময় তাকে উৎসাহিত করতেন।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। যদিও এই ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি, পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার পর আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন, গ্রামীণ ফুটবল প্রতিযোগিতায় সাধারণত কোনো চিকিৎসক বা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকে না, যা নিরাপত্তার দিক থেকে বড় ঘাটতি। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও এই ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন, ফিফার নির্দেশিকা অনুযায়ী এমন প্রতিযোগিতায় মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক, এবং আয়োজকরা আগে থেকে জানালে সংস্থা এই ব্যাপারে সহায়তা করতে পারে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!