নিজস্ব সংবাদদাতা, ফালাকাটা-আলিপুরদুয়ার, দ্য ফোর্থ কলাম, ২ মে ২০২৬:

ভালোবেসে সংসার পেতেছিলেন ঠিকই, কিন্তু আইনের চোখে তা ছিল দণ্ডনীয় অপরাধ। নাবালিকাকে বিয়ে করার দায়ে অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী যুবক সুবিমল সরকার ( নাম পরিবর্তিত)। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত কাল হলো তার।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক বছর আগে। ফালাকাটা থানার অন্তর্গত পূর্ব ঝাড়বেলতলীর বাসিন্দা সুবিমল সরকার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। গত এক বছর ধরে তারা সংসার করছিলেন। সম্প্রতি ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত এপ্রিল মাসে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কিশোরীর নথিপত্র পরীক্ষা করে জানতে পারেন যে তার বর্তমান বয়স মাত্র ১৬ বছর। অর্থাৎ বিয়ের সময় সে নাবালিকা ছিল।
আইন অনুযায়ী নাবালিকা বিবাহের বিষয়টি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের পক্ষ থেকে ফালাকাটা থানায় সুবিমলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর আইনি চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার (২ মে ২০২৬) থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন অভিযুক্ত সুবিমল। পুলিশ তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় (POCSO Act) মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবারই তাকে আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ইতিমধ্যে ওই দম্পতির একটি কন্যা সন্তানও ভূমিষ্ঠ হয়েছে। ভালোবাসার পরিণাম যে এমন আইনি জটিলতায় গড়াবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি ওই যুবক। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে এবং নাবালিকা বিবাহ রোধে প্রশাসনের কড়া অবস্থানের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।