নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১১ এপ্রিল ২০২৬ :

প্রতীকী ছবি
নদী দূষণ মুক্ত করতে ইতালীয় বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবন: প্লাস্টিক খেকো উদ্ভিদ
বিশ্বজুড়ে নদী ও জলাশয়গুলোতে প্লাস্টিক দূষণ যখন এক ভয়াবহ সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে, তখন ইতালির বিজ্ঞানীরা এক যুগান্তকারী সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। ইতালির ফ্লোরেন্সের একদল উদ্ভিদবিদ এমন এক বিশেষ জলজ উদ্ভিদ তৈরি করেছেন, যা জলের ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ভারী ধাতু শুষে নিতে সক্ষম। এই উদ্ভিদটিকে বলা হচ্ছে প্রকৃতির নিজস্ব ‘ভ্যাকুয়াম ক্লিনার’।
পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা: এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন
বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ গাছটির নাম দিয়েছেন ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’। এটি আসলে আমাদের অতি পরিচিত ‘টোপাপানা’ বা ওয়াটার লেটুসের একটি উন্নত সংস্করণ। এই উদ্ভিদের শিকড়ে রয়েছে বিশেষ ধরনের এনজাইম, যা পলিথিন বা পলিস্টাইরিনের মতো সূক্ষ্ম কণাগুলোকে সহজেই আটকে ফেলে এবং গাছের ভেতরে টেনে নেয়।
কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা
গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই উদ্ভিদটি মাত্র এক ঘণ্টায় ১০০ লিটার জলের ৯২ শতাংশ মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিষ্কার করতে পারে। সবথেকে বড় সুবিধা হলো, এই প্রক্রিয়ায় কোনো বিদ্যুৎ বা ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। গাছগুলো যখন প্লাস্টিক শুষে নিয়ে পূর্ণ হয়ে যায়, তখন সেগুলো সংগ্রহ করে পুড়িয়ে তাপশক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। ইতালির বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে এবং জাতিসংঘ এই প্রযুক্তির ওপর বিশেষ নজর রাখছে।
ভারতের প্রেক্ষাপটে গুরুত্ব
ভারতের গঙ্গা ও যমুনার মতো প্রধান নদীগুলো বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণে জর্জরিত। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের মতে, দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৬ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়। প্রচলিত পদ্ধতিতে এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য পরিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘পিস্তিয়া ম্যাগনিফিকা’ ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান হতে পারে। কোনো বড় পরিকাঠামো ছাড়াই এই সবুজ প্রযুক্তি আমাদের নদীগুলোর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকৃতির এই শক্তি ব্যবহার করে পরিবেশের ক্ষত নিরাময় এখন সময়ের দাবি।