নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২১ মার্চ ২০২৬ :

বিশ্বজুড়ে বায়ু দূষণের দাপট এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মেট্রো শহরগুলিতে দূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার (PM 2.5) পরিমাণ নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১৭ গুণ বেশি। তবে নতুন গবেষণা এক ভয়াবহ তথ্য সামনে এনেছে—এই বিষাক্ত বাতাস শুধু আমাদের ফুসফুস নয়, সরাসরি আঘাত করছে আমাদের মস্তিষ্কেও। বাড়ছে মানসিক অবসাদ ও ডিমেনশিয়ার মতো মারণ রোগ।
বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০০ বছরে বাতাসে কার্বনের মাত্রা যেখানে ২৫ শতাংশ বেড়েছিল, গত মাত্র ৩০ বছরেই তা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকারখানার ধোঁয়া, প্লাস্টিক দূষণ এবং বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মাটি ও জলের পাশাপাশি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও যানবাহনের ধোঁয়া থেকে নির্গত রাসায়নিক রক্তনালীতে প্রবেশ করে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করছে, যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব। গবেষকরা দাবি করছেন, বাতাসে ভাসমান বিষাক্ত কণা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যা থেকে স্কিৎজোফ্রেনিয়া, দীর্ঘমেয়াদী অবসাদ বা ডিপ্রেশন এবং স্মৃতিনাশের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব মারাত্মক। দূষিত বাতাসে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শিশুদের স্বাভাবিক মস্তিষ্কের বিকাশ থমকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এখনই যদি আমরা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিই, তবে আগামী দিনে মানবসভ্যতাকে এক ভয়ঙ্কর শারীরিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। পরিবেশ রক্ষার লড়াই এখন কেবল বাঁচার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।