আবারও কেঁপে উঠল নেপাল: ২০১৫-র ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দারচুলায় ৪ মাত্রার ভূমিকম্প | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ২৬ মার্চ ২০২৬ :

কাঠমান্ডু: বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপালের বিস্তীর্ণ অংশ। ২০১৫ সালের ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে দেওয়া এই কম্পনের রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৪। নেপালের ন্যাশনাল আর্থকোয়েক মনিটরিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল সুদূর পশ্চিম নেপালের দারচুলা জেলার মুরাই এলাকা।
দারচুলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বৈতাড়ি এবং বজহাং জেলাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, সিসমিক জোন হিসেবে অত্যন্ত সক্রিয় এই অঞ্চলে এবারের কম্পনে এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে নেপাল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। দেশটি সিসমিক জোন চার এবং পাঁচের অন্তর্গত, যা বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলগুলির একটি। ফলে এখানে প্রতি বছরই ছোট-বড় একাধিক ভূমিকম্প হয়ে থাকে। বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলির তালিকায় নেপালের অবস্থান ১১ নম্বরে।
বৃহস্পতিবারের এই মৃদু কম্পন নেপালবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিলের সেই কালো দিনটির কথা। সেবার ৭.৮ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে থাকা গোরখা ছিল সেই বিপর্যয়ের কেন্দ্রস্থল। সেই ঘটনায় প্রায় ৯,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন ২২,০০০-এরও বেশি মানুষ। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা অর্থাৎ ৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সেই ভূমিকম্পে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ৫ লক্ষেরও বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহও সেই ধংসলীলা থেকে রেহাই পায়নি। কাঠমান্ডু, পাটন এবং ভক্তপুর দরবার স্কোয়ার, ছাঙ্গু নারায়ণ মন্দির, বৌদ্ধনাথ ও স্বয়ম্ভুনাথ স্তূপের মতো একাধিক ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। যদিও এবারের কম্পনে তেমন বড় বিপত্তি ঘটেনি, তবুও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!