নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১২ মার্চ ২০২৬ :

উত্তরবঙ্গ: এক সময়ের শৌর্য আর আভিজাত্যের প্রতীক উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলি আজ এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। যে শ্রমিকরা নিজেদের রক্তজল করা পরিশ্রমে বাগানগুলোকে সবুজ রেখেছেন, আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁরাই ব্রাত্য। বকেয়া পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির দাবিতে আলিপুরদুয়ার থেকে জলপাইগুড়ি—সরকারি দপ্তরের দরজায় দরজায় ঘুরছেন হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত চা শ্রমিক।
অভিযোগের তির মালিকপক্ষ এবং প্রশাসনের উদাসীনতার দিকে। কোটি কোটি টাকার গ্র্যাচুইটি ও পিএফ আত্মসাৎ করে মালিকপক্ষ বহাল তবিয়তে থাকলেও, চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন শ্রমিকরা। এমনকি অনেক শ্রমিক পাওনা টাকা না পেয়েই মারা গিয়েছেন। বর্তমান শ্রমিকদের অবস্থাও শোচনীয়। মাত্র ২৫০ টাকা দৈনিক মজুরিতে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই ঘরের পুরুষরা পরিযায়ী শ্রমিকের পথ বেছে নিচ্ছেন, আর মহিলারা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন বাগানে।
দক্ষিণ ভারত বা কেরলের চা শ্রমিকরা যদি ৫৪৬ টাকা নূন্যতম মজুরি পেতে পারেন, তবে পশ্চিমবঙ্গ বা অসমের শ্রমিকরা কেন বঞ্চিত? এই প্রশ্নই এখন উত্তরের চা বলয়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালেও শ্রমিকদের পেনশনের দাবিতে তাঁরা নীরব। মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এই বঞ্চনার ছবি সেভাবে ফুটে উঠছে না বলে অভিযোগ। বাধ্য হয়েই নিজের অধিকার বুঝে নিতে প্রবীণ ও নবীন শ্রমিকরা আজ ফের লাল ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ এখন আন্দোলনের আকার নিচ্ছে।