বিপর্যয়ে নেপালের পথেই কি দার্জিলিং পাহাড়? সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে উত্তরবঙ্গ | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

বিপর্যয়ে নেপালের পথেই কি দার্জিলিং পাহাড়? সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোনে উত্তরবঙ্গ
নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা দার্জিলিং পাহাড়ের ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে, যা রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি করেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি এবং ইউনাইটেড স্টেট জিওলজিকাল সার্ভের গবেষণা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক দশকে দার্জিলিং-কালিম্পং পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় চারশোর বেশি ভূমিকম্প হয়েছে। বছরে গড়ে ৪৩ এবং মাসে ৩ বার এখানকার মাটি কেঁপেছে। বেশিরভাগ ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৪-এর কম হওয়ায় তা গুরুত্ব পায়নি।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স:
২০১৫ সালের নেপালের মতো ভয়াবহ ভূমিকম্প এখানেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) নতুন আপডেট সিসমিক জোনেশন ম্যাপ। এই ম্যাপে দার্জিলিং, কালিম্পং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং সিকিমের সমস্ত জেলা-সহ পুরো হিমালয় অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জোন সিক্স-এ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এখানে রিখটার স্কেলে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বিপদ:
তথ্য অনুযায়ী, দার্জিলিং পাহাড়ের নেপালের চেয়েও তীব্র ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। ১৯০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি এখানে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এমনকি গত বছর ৭ জানুয়ারি রিখটার স্কেলে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষা বলছে, আশির দশক থেকে দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় ধসের অন্যতম কারণ।
গবেষকদের মতে, রিখটার স্কেলে ৬-এর উপরে ভূমিকম্প হলে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি-সহ উত্তরবঙ্গের প্রতিটি শহর-গ্রাম বিধ্বস্ত হবে। অপরিকল্পিত নির্মাণ এবং বহুতলের আধিক্য ‘ডোমিনো প্রভাব’ সৃষ্টি করে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। এখনই সতর্কতা ও সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে বিপর্যয় অনিবার্য।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!