ডমরু ধর, দ্যা ফোর্থ কলাম, ফালাকাটা, ১৪ মে ২০২৬ :-

এবারের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতেই হতাশায় ডুবেছে আলিপুরদুয়ার জেলা। বিগত পাঁচ বছরের ধারাকে ছিন্ন করে এবার রাজ্যভিত্তিক মেধাতালিকার প্রথম দশে জায়গা করতে পারেনি জেলার কোনও পড়ুয়া। অথচ প্রতি বছরই এই জেলা থেকে কেউ না কেউ সেরাদের তালিকায় নাম উজ্জ্বল করত। কেন এই ছন্দপতন? তার কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন জেলার বিশিষ্ট শিক্ষকরা।
শিক্ষক মহলের মতে, ব্যর্থতার প্রধান কারণ হলো নতুন ‘সেমিস্টার পদ্ধতি’। ফালাকাটা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ রক্ষিত জানান, পরীক্ষার্থীরা এখনও এই পদ্ধতির সঙ্গে সড়গড় হতে পারেনি। প্রথম সেমিস্টারে এমসিকিউ (MCQ) এবং দ্বিতীয় সেমিস্টারে বিষয়ভিত্তিক বড় প্রশ্ন—এই দ্বিমুখী চাপে খেই হারিয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। এর ওপর কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মডেল প্রশ্নপত্র প্রকাশে মাত্রাতিরিক্ত বিলম্ব করা হয়েছে। একেবারে শেষ মুহূর্তে নমুনা প্রশ্ন আসায় পড়ুয়ারা প্রস্তুতির সঠিক দিশা পায়নি।
অন্য একটি বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিধানসভা নির্বাচন। আলিপুরদুয়ার হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শম্ভুনাথ সরকার বলেন, “ডিসেম্বর থেকেই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় পঠনপাঠনের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে পরীক্ষা এগিয়ে আসায় এবং স্কুলগুলিতে ক্লাসের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা উপযুক্ত সময় পায়নি।”
তবে এই অন্ধকার ছবির মাঝেও আশার আলো দেখিয়েছে ফালাকাটা হাই স্কুলের দুই যমজ ভাই। শালকুমারহাটের কৃষক পরিবারের সন্তান নবজ্যোতি অধিকারী ও ননীগোপাল অধিকারী চরম আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে যথাক্রমে ৪৫০ ও ৪৫১ নম্বর পেয়েছে। মেধাতালিকায় জেলার খরা চললেও, এই যমজ ভাইয়ের সাফল্য এখন জেলাজুড়ে চর্চার বিষয়।