সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি বাতিল, দিশেহারা শিক্ষাব্যবস্থা, পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নিউজডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, কলকাতা, ৭ এপ্রিল ‘ ২০২৫ :

রাজ্য জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করা প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের নির্দেশের পর আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে চাকরিহারাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিপুল সংখ্যক চাকরি বাতিল হওয়ায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন চাকরিহারা শিক্ষকদের পাশে থাকার বার্তা দেন এবং যোগ্য প্রার্থীদের আগামী দু’মাসের মধ্যে চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। এই পরিস্থিতিতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দেশের শীর্ষ আদালতে একটি নতুন আবেদন করেছে বলে সূত্রের খবর। পর্ষদের এই আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের রায়ের সাময়িক পরিবর্তনের আর্জি জানানো হয়েছে।
এসএসসি মামলায় বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারানোর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পঠন-পাঠন নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের কে পড়াবেন, কীভাবে চলবে পঠন প্রক্রিয়া, এই নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত চাকরিহারা শিক্ষকদের তাদের কর্মস্থলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। পর্ষদের এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে হলেও স্থিতিশীল রাখার একটি প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যারা যোগ্য তারা ভরসা রাখুন। ধৈর্য ধরুন। বিনা কারণে কারোর চাকরি কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারোর নেই। আমরা চাকরি করতে যান। রাজ্য সরকার আপনাদের পাশে আছে। দুমাসের মধ্যেই যোগ্যদের চাকরি নিশ্চিত করবে সরকার।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যোগ্যদের চাকরির দায়িত্ব সরকারের! নোটিশ না পাওয়া অবধি আপনারা স্কুলে গিয়ে নিজেদের কাজ করুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। যোগ্যদের চাকরি আমি নিশ্চিত করবই।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসবাণী চাকরিহারা শিক্ষকদের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনেছে। তবে, সুপ্রিম কোর্ট মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আবেদনে কী রায় দেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা এবং চাকরিহারা শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ এখন শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।