নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মার্চ ২০২৬ :

রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: সাধারণ মানুষের হেঁশেল বাঁচাতে একগুচ্ছ পরামর্শ
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম এখন আকাশছোঁয়া। ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যে হাজার টাকার ঘর স্পর্শ করেছে। নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যের বাজারে রান্নার গ্যাসের এই বাড়তি খরচ সাধারণ মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে। এই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একমাত্র সঠিক সাশ্রয়ী অভ্যাসের মাধ্যমেই মাসের শেষে গ্যাসের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
গ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ শুরু হয় আপনার রান্নাঘরের বার্নার থেকে। অনেক সময় বার্নারে তেল বা কালি জমে ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। যদি দেখেন বার্নারে নীল শিখার বদলে লাল বা হলুদ শিখা জ্বলছে, তবে বুঝতে হবে আপনার গ্যাস অপচয় হচ্ছে। নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখলে তাপের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এছাড়া, বড় বার্নারের চেয়ে ছোট বার্নার ব্যবহার করলে জ্বালানি খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
রান্নার প্রস্তুতির ওপর গ্যাসের ব্যবহার অনেকাংশে নির্ভর করে। চাল বা ডাল রান্নার অন্তত আধঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয়, যা আগুনের ব্যবহার কমায়। রান্নার সময় পাত্র ঢেকে রাখা অত্যন্ত জরুরি; কারণ এতে তাপ ভেতরে আটকে থাকে এবং রান্না দ্রুত সম্পন্ন হয়। রান্নার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি ও সময়—উভয়ই বাঁচে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফ্রিজ থেকে সরাসরি খাবার বের করেই আঁচে না বসানো। ফ্রিজের অত্যন্ত ঠান্ডা খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে বেশি সময় ও গ্যাস ব্যয় করে। তাই রান্নার কিছুক্ষণ আগেই ফ্রিজ থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ বের করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। সবশেষে, রান্নার কাজ শেষ হওয়ার ৪-৫ মিনিট আগেই আঁচ বন্ধ করে পাত্র ঢেকে রাখুন। ভেতরের অবশিষ্ট তাপেই বাকি রান্নাটুকু হয়ে যাবে। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো রপ্ত করতে পারলে চড়া দামের বাজারেও সাধারণ মানুষের হেঁশেল সামলানো কিছুটা সহজ হবে।