নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনহাটা, দ্যা ফোর্থ কলাম, ১০ এপ্রিল ২০২৬:

ভোটের মুখে উত্তপ্ত দিনহাটার পেটলা এলাকা। প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপির মণ্ডল সহ-সভাপতি ও পঞ্চায়েত সদস্য তপন কুমার বর্মনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জখম বিজেপি নেতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কী ঘটেছিল?
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দিনহাটা ২ ব্লকের পেটলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বোরোডাঙায় দলীয় কর্মসূচি শেষে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন তপন কুমার বর্মন। অভিযোগ, পথে পেটলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎই তৃণমূলের একদল কর্মী ধারালো অস্ত্র হাতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়।
আহতের বয়ান:
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তপনবাবুকে উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি বলেন, “আমি দলের কর্মসূচিতে গেছিলাম। ফেরার পথে তৃণমূলের গুন্ডারা আমার ওপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে।”
বিজেপির প্রতিক্রিয়া:
ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব হাসপাতালে পৌঁছান। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। তারা দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়েছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া:
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তৃণমূলের ব্লক নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল বা অন্য কোনও কারণে ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ তদন্ত করছে, দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।
পুলিশের পদক্ষেপ:
ঘটনার তদন্তে নেমেছে দিনহাটা থানার পুলিশ। কে বা কারা এই হামলার পিছনে রয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এলাকায় নতুন করে কোনও উত্তেজনা যাতে না ছড়ায় তার জন্য পুলিশি টহলদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।