বক্সা পাহাড়ে পর্যটকদের জন্য নতুন দিগন্ত: ঘোড়া ও হাতি সাফারি
নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২০ মে ২০২৫ :-
পর্যটকদের জন্য সুখবর! অচিরেই বক্সা পাহাড়ের দুর্গম পথে শোনা যাবে টাট্টু ঘোড়ার খুরের আওয়াজ। উত্তরবঙ্গ সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্সার পর্যটন প্রসারে এই অভিনব পরিকল্পনায় সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এর ফলে পর্যটকরা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বক্সার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
আলিপুরদুয়ারের শিল্পপতি অরিন্দম ঘোষ শিলিগুড়িতে শিল্পপতিদের সঙ্গে এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বক্সা পাহাড়ে জিনিসপত্র ওঠানামার জন্য ঘোড়া ও খচ্চরের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। সেই উদাহরণ সামনে রেখেই তিনি পর্যটনের প্রসারে ঘোড়া ও কুনকি হাতি ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বন দফতর ও SSB-কে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রজনন মরশুমের জন্য দেশের সমস্ত সংরক্ষিত বনাঞ্চল বন্ধ থাকে। তাই আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে বক্সা পাহাড়ে ঘোড়ায় চড়া শুরু হবে। অরিন্দম ঘোষ ইতিমধ্যেই ২০ জন যুবককে ঘোড়া চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এবং পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ঘোড়া কিনে দেবেন। তাঁর এই উদ্যোগে স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেন জানিয়েছেন, ঘোড়া চলাচলের বিষয়ে তাঁরা ছাড়পত্র দেবেন। ভবিষ্যতে হাতি সাফারির জন্যও রাজাভাতখাওয়ায় একটি পিলখানা তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশ পেলেই হাতি সাফারিও চালু করা যাবে। অরিন্দম ঘোষের মতে, ঘোড়া ও হাতির ব্যবহার বক্সা পাহাড়ের পর্যটনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, কারণ ঘোড়া গৃহপালিত পশু হওয়ায় আইনি জটিলতাও কম।