অগত্যা ঘুমপাড়ানি গুলি! দীপাবলির আগেই বক্সায় ফিরছে রায়মোনায় পাড়ি দেওয়া বাঘিনি বিটিআর টিএফ-১ |The 4th Column

জারুল রাভা, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ :-

দীপাবলির আগেই ঘরওয়াপসি হচ্ছে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প ছেড়ে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভে চলে যাওয়া বাঘিনি বিটিআর টিএফ-১-এর। শনিবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রায়মোনায় ছুটে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা কুমার বিমল-সহ রাজ্যের একাধিক বনকর্তা।
রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের সেন্ট্রাল রেঞ্জে কচুগাঁও বনবিভাগের ডিএফও মুস্তাফা আলি ও অসম বনদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল সোনালী ঘোষের সঙ্গে আধ ঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন বনমন্ত্রী ও রাজ্যের বনকর্তারা। সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেহেতু রায়মোনার আস্তানা ছেড়ে বাঘিনিটি প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরের নারায়ণপুর বনবস্তিতে ডেরা বেঁধেছে, তাই আসন্ন দীপাবলি উৎসবের কথা মাথায় রেখে আর কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ দুই পড়শি রাজ্যের বনদপ্তর।

তড়িঘড়ি বাঘিনিটিকে ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে ফের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ২৫ মাইল টাওয়ার সংলগ্ন প্রাকৃতিক ঘেরাটোপে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ওই ২ হেক্টরের ঘেরাটোপই বিটিআর টিএফ-১-এর অস্থায়ী ঠিকানা হতে চলেছে।
অভিযানের জন্য শনিবারই রায়মোনায় নিয়ে আসা হয়েছে ‘ঐরাবত’ নামের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সাঁজোয়া গাড়ি। এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির থার্মাল ড্রোন ক্যামেরা, বিশাল জাল, ট্র্যাঙ্কুলাইজার গান, ট্র্যাঙ্কুলাইজ করার পর দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখার জন্য ঠান্ডা জলের স্প্রে মেশিন এবং জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ড্রপ মোড রেডিও কলার।

বক্সা থেকে সঙ্কোশ নদীর চৌধুরী ঘাট হয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছতে বাঘিনিটি কমপক্ষে ১১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার আচমকাই রায়মোনার নর্দান রেঞ্জের জঙ্গল ছেড়ে ঘন শ্যাডো জ়োন পেরিয়ে সে নারায়ণপুর বনবস্তিতে চলে যায়। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ তার অবস্থান জানতে পেরে নিশ্চিন্ত হন দুই রাজ্যের বনকর্তারা।
অসম বনদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল সোনালী ঘোষ বলেন, “রায়মোনায় বর্তমানে ৬টি বাঘ রয়েছে। তাদের মধ্যে বাঘিনির সংখ্যাই বেশি।” তাঁর ধারণা, রাজেন্দ্রপুর থেকে হাতিগড় হয়ে বিটিআর টিএফ-১ রায়মোনার নর্দান রেঞ্জের জঙ্গলে পৌঁছনোর পর কোনো পূর্ণবয়স্ক বাঘিনির তাড়া খেয়ে নারায়ণপুরে চলে যায়। বাঘিনিটির বয়স মাত্র তিন বছর। স্বাভাবিক কারণেই নিরাপত্তার অভাব বোধ করে গভীর জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ের নিরাপদ আস্তানায় যেতে সে বাধ্য হয়েছে বলে মত সোনালী ঘোষের।

বনমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বাঘিনিকে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করে, কিংবা নেটিং করে ফের বক্সায় ফেরানো হবে।” তাঁর কথায়, অসমের বনকর্তারা শঙ্কিত, দীপাবলির শব্দবাজিতে বাঘিনি বিরক্ত হয়ে ঘাবড়ে গেলে লোকালয়ের মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে বিপদ ঘটতে পারে। তাই আর ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। বনমন্ত্রী জানান, সব কাজ বাতিল করে রবিবার তিনি নারায়ণপুরে চলে আসবেন এবং যতক্ষণ না বাঘিনি বাগে আসছে, ততক্ষণ সেখানেই থাকবেন।
তিনি আরও জানান, বাঘিনিকে ট্র্যাঙ্কুলাইজ করার অনুমতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটির কাছে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর আশা, শনিবার রাতের মধ্যেই সেই অনুমতি চলে আসবে।

ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে: বৃহস্পতিবার আচমকা রায়মোনার নর্দান রেঞ্জ ছেড়ে নারায়ণপুর বনবস্তিতে চলে যায় বাঘিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার অবস্থান নিশ্চিত হয়। শনিবার রায়মোনায় পৌঁছন বনমন্ত্রী ও বনকর্তারা, বৈঠকে ঘুমপাড়ানি গুলির সিদ্ধান্ত হয় এবং অভিযানের সরঞ্জাম পৌঁছয়। রবিবার নারায়ণপুরে পৌঁছনোর কথা বনমন্ত্রীর। আপাতত ট্র্যাঙ্কুলাইজ করার অনুমতির অপেক্ষায় দুই রাজ্যের বনদপ্তর।
ব্যুরো রিপোর্ট দ্যা ফোর্থ কলাম

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!