নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৩ মার্চ ২০২৬ :

ব্যক্তিগত অধিকার বনাম জনস্বাস্থ্য: রক্তদান বিধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থানে অনড় কেন্দ্র
নয়াদিল্লি: রক্তদানের ক্ষেত্রে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি, সমকামী পুরুষ (MSM) এবং নারী যৌনকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে বড় মন্তব্য করল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র সাফ জানিয়েছে যে, রক্তদাতার ব্যক্তিগত অধিকারের চেয়ে রক্ত গ্রহীতার জীবনের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যের প্রেক্ষিত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালের বিদ্যমান নির্দেশিকা, যা এই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে রক্তদানে নিষিদ্ধ করে, তা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই বলে কেন্দ্র ইঙ্গিত দিয়েছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি সরকারের পক্ষ সওয়াল করেন। তিনি জানান, এই নির্দেশিকাগুলো বিশেষজ্ঞ পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে এবং এতে বৃহত্তর জনস্বার্থ জড়িয়ে আছে। সরকারের মতে, এই জনগোষ্ঠীগুলো রক্তবাহিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ (at risk)। তাই নির্দেশিকায় কোনো ধরনের শিথিলতা আনা হলে তা কয়েক লক্ষ রক্ত গ্রহীতার জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।
অন্যদিকে, আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী জয়না কোঠারি এই নিয়মকে সরাসরি বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, যৌন পছন্দ বা লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে রক্তদান থেকে বঞ্চিত করা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। কোঠারি বলেন, “ঝুঁকি কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে থাকে না, ঝুঁকি থাকে অনিরাপদ যৌন আচরণে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বর্তমানে ‘নিউক্লিক অ্যাসিড টেস্টিং’ (NAT)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এইচআইভি বা হেপাটাইটিসের মতো ভাইরাস খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে পরিচয় নির্বিশেষে উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে নিরাপদ রক্ত নিশ্চিত করাই বিজ্ঞানসম্মত উপায়।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অবশ্য এই মুহূর্তে নির্দেশিকায় হস্তক্ষেপ করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। বিচারপতিরা বিশেষভাবে সেইসব দরিদ্র রোগীদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংক্রমণের এক শতাংশ ঝুঁকিও এড়িয়ে চলা উচিত। আদালত এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী তারিখে বিস্তারিত শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই মামলার রায় ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং মানবাধিকারের ভারসাম্য রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে।