নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ মার্চ ২০২৬ :

সুরের মায়ায় আত্মনিবেদন: সমর্পণের গানে কি অরিজিৎ সিং-ই অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
বিনোদন প্রতিবেদক | কলকাতা বলিউডের প্লেব্যাক জগত থেকে সম্প্রতি অবসরের ঘোষণা দিয়ে গোটা সংগীত বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। তবে ভক্তদের বিষণ্নতার মাঝেই তিনি ফিরে এসেছেন সম্পূর্ণ নতুন রূপে—এক আধ্যাত্মিক যাত্রীর বেশে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তাঁর স্বাধীন সঙ্গীত ‘ও শিব মেরে’ (O Shiv Mere) যেন নতুন করে প্রমাণ করল, কেন সমর্পণ বা ডিভোশনাল গানে তাঁর কণ্ঠ আজও অতুলনীয়।
প্লেব্যাক পরবর্তী এক নতুন অধ্যায়
২০২৬ সালের শুরুতেই অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক থেকে বিরতি নেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সঙ্গীত যে তাঁর সত্তায় মিশে আছে, তার প্রমাণ মিলল খুব শীঘ্রই। মহাশিবরাত্রির প্রাক্কালে মুক্তি পাওয়া তাঁর শিব ভজনটি কোনো প্রচার ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। শ্রোতাদের মতে, অরিজিথের কণ্ঠে এক অদ্ভুত ‘স্থিরতা’ এবং ‘সমর্পণ’ রয়েছে, যা তাঁকে সাধারণ গায়কদের থেকে আলাদা করে।
কেন তিনি সমর্পণের গানে সেরা?
সংগীত বিশেষজ্ঞদের মতে, অরিজিৎ সিংয়ের গায়কিতে এক ধরনের আর্তি বা ব্যাকুলতা কাজ করে। ‘চন্না মেরেয়া’ থেকে শুরু করে ‘দেবা দেবা’ কিংবা ‘মন মস্ত মগন’—প্রতিটি গানেই তিনি নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক সুর খুঁজে পান। যখন তিনি ভজন বা আধ্যাত্মিক গান গান, তখন তাঁর শাস্ত্রীয় সংগীতের ভিত এবং গলার স্বাভাবিক করুণ রস মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এটি কেবল গান নয়, বরং একটি প্রার্থনায় পরিণত হয়।
ভক্ত ও সমালোচকদের মত
সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনরা বলছেন, “অরিজিৎ সিং কেবল হৃদয়ের ভাঙা টুকরো জোড়া লাগাতেই জানেন না, তিনি আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে মেলাতেও দক্ষ।” তাঁর সুরের মধ্যে যে ‘ডিভাইন’ বা স্বর্গীয় ছোঁয়া রয়েছে, তা আজকের যুগের আর কোনো গায়কের মধ্যে পাওয়া বিরল। প্লেব্যাক জগত থেকে সরে দাঁড়িয়ে তিনি এখন স্বাধীন সঙ্গীতের মাধ্যমে আত্মার মুক্তি খুঁজছেন বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে, সমর্পণের সুরে অরিজিৎ সিং এখন এক অনন্য উচ্চতায়।