নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ :

ডাস্টবিনে নয়, রূপটানের ডালায় উঠুক তরমুজের খোসা! দামি প্রসাধনীকে দেবে টেক্কা
গ্রীষ্মের দাবদাহ বাড়ার সাথে সাথে বাজারে তরমুজের চাহিদাও তুঙ্গে। শরীর ঠান্ডা রাখতে এই ফলের জুড়ি মেলা ভার। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লাল শাঁসটুকু খেয়ে খোসাটা আমরা অবলীলায় ডাস্টবিনে ফেলে দিই। রূপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি মস্ত বড় ভুল! কারণ, আপনার ত্বকের জেল্লা ফেরানোর যাবতীয় রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তরমুজের ওই অবহেলিত সাদা অংশেই। সাধে কি আর একে ‘প্রাকৃতিক বিউটি ফিল্টার’ বলা হয়!
আর্দ্রতার জাদুকরী উৎস: তরমুজের খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং বি৬ রয়েছে। এর উচ্চ জলীয় উপাদান ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেট বা সিক্ত করে। কড়া রোদে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এমতাবস্থায়, তরমুজের খোসার ভেতরের সাদা অংশ মুখে ১৫ মিনিট ঘষে ধুয়ে নিন। নিমেষেই ফিরবে জেল্লা। দামী ময়েশ্চারাইজারের চেয়েও এটি বেশি কার্যকর হতে পারে।
ট্যান ও ব্রণের সহজ সমাধান: রোদে পোড়া ভাব বা ট্যান কমানো এক বড় সমস্যা। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা তরমুজের খোসা সরাসরি ত্বকে লাগালে এটি প্রাকৃতিক কুলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং পোড়া ভাব দ্রুত কমায়। আবার, যাঁদের ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা খোসার রস তুলোয় করে মুখে লাগাতে পারেন। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
ঘরোয়া ফেসপ্যাক ও চুলের যত্ন: বাজারচলতি রাসায়নিক যুক্ত ফেসপ্যাকের বদলে বাড়িতেই বানিয়ে নিন প্রাকৃতিক প্যাক। তরমুজের খোসা ব্লেন্ড করে তার সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে সপ্তাহে দু’দিন ব্যবহার করলে ত্বকের মলিনতা দূর হবে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা রুখতেও এটি সিদ্ধহস্ত। শুধু ত্বক নয়, চুলের জেল্লা বাড়াতেও এটি অসামান্য। খোসার পেস্ট স্ক্যাল্পে মেখে ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন; এটি চুলকে হাইড্রেট করে এবং রুক্ষ ভাব দূর করে বাড়তি ঔজ্জ্বল্য আনে।
পরিশেষে, যে কোনো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট জরুরি। সংবেদনশীল ত্বক হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়। এবার থেকে তাই তরমুজ খাওয়ার পর খোসাটা পরম যত্নে নিজের রূপটানের ডালায় তুলে রাখুন।