নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ :

গুসকরায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে রণক্ষেত্র: মা ও শাশুড়ির দড়ি টানাটানি, অসুস্থ পরীক্ষার্থী
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে নাটকীয় পরিস্থিতি! একদিকে নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে মরিয়া মা, অন্যদিকে নিজের বাড়ির বউকে নিয়ে যেতে অনড় শাশুড়ি। দুই পক্ষের টানাটানিতে মাঝপথে নাজেহাল দশা হল এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর। শুক্রবার বর্ধমান জেলার গুসকরা পি পি ইন্সটিটিউশন পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
জানা গিয়েছে, গুসকরা শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই ছাত্রী গুসকরা গার্লস হাই স্কুলের পড়ুয়া। শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুরজ পাসোয়ানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল। ২ সপ্তাহ আগে পরিবারের অমতেই ১৮ বছর পার করা ওই ছাত্রী সুরজকে বিয়ে করেন। ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, মেয়ের অমতে জোর করে এই বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি মেয়েকে আরও পড়াতে চেয়েছিলেন। যদিও শাশুড়ির দাবি, দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং পাকা কথা বলেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিন পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গেটের বাইরে আগে থেকেই ওত পেতে দাঁড়িয়েছিলেন ছাত্রীর মা। ছাত্রী বেরোতেই মা তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় ছাত্রীর শাশুড়িও বাধা দেন এবং নিজের বউমাকে নিয়ে যেতে চান। শুরু হয় চরম টানাটানি ও ধাক্কাধাক্কি। ধস্তাধস্তির মাঝেই মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পায় ওই ছাত্রী। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। অসুস্থ অবস্থায় ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র শোরগোল পড়ে যায়। ছাত্রীটি বর্তমানে শ্বশুরবাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক বলে জানিয়েছে।