অরুণাচলে গাড়ি’গিরি’…চার চাকায় এক রম্য ট্রিপ জার্নাল…কলমে পার্থ দাশগুপ্ত | The 4th Column

অরুণাচলে গাড়ি’গিরি’ (প্রথম পর্ব )/ পার্থ দাশগুপ্ত
______________________________________
“বটে?” আড়নয়নে চাইলে বাচ্চুদা।

“কেন? এত লোক যাচ্ছে, তারা কি সব পাহাড়ের গা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে?” আমি ফরওয়ার্ড ডিফেন্স করলাম।

“আহা, তারা যায় গৌহাটি বা তেজপুর অবধি উড়ে৷ সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া নেয়৷ সেগুলো যারা চালায় তাদের সেটা নিত্যদিনের কাজ। তোরা তো গাড়ি চালাস বাইপাসের ক্যারমবোর্ডের মতো রাস্তায়। টি-২০-তে চার ওভার কোনোমতে হাত ঘোরানো আর টেস্টে একটানা ৪০ ওভার বল করে উইকেট তোলা কি এক হল?”

— গাড়ি ‘ গিরি’র নায়ক

“বাইপাস ক্যারমবোর্ড? তুমি চালিয়েছ কখনো? গোটা বাইপাসটা তাপ্পি মারা। একদিন স্কুটি চালালে তিনদিন পিঠ ম্যাসাজ করাতে হয়”।

“আহা, হলেও সে তো আর পনেরো হাজার ফুটি পাহাড় না৷ পাকদণ্ডীর পর পাকদণ্ডী, ট্যান থিটা প্রায় এক-এর কাছাকাছি, পিঠ আর ঘাড় বেঁকে আছে তো আছেই, রাস্তার ধারে কোথাও গাড়ি রেখে দু দণ্ড জুড়োবো – তার জো নেই। হয় উঠতেই থাকো, না হলে নামতেই থাকো। নিউটনের ফার্স্ট ল-র একেবারে মোক্ষম উদাহরণ৷ এ বাপু সোজা কম্মো নয়”।

“সে জন্যই তো আরও বেশি করে রোড ট্রিপ করা৷ এই চ্যালেঞ্জগুলো না থাকলে -”

“হয়েছে হয়েছে৷ থাম৷ আর বুকনি ঝাড়িসনি৷ যাচ্ছিস যা৷ সাবধানে গাড়ি চালাস। আর উলটোপালটা কিছু খাস নে”।

“বা রে, অ্যাদ্দূর যাবো৷ ওখানকার লোকাল ক্যুইজিন -”

“এই করেই তোদের মরণ হবে একদিন। তিন কুড়ি বয়স হতে চলল, এখনও খাবার কথা উঠলে নোলা একেবারে সপসপিয়ে ওঠে” – গজগজিয়ে চলে গেল বাচ্চুদা।

— শুভারম্ভের নিজস্বী

————-
ডেকাথলনের জ্যাকেট এল। জুতো এল। আলমারি ঘেঁটে উলের টুপি আর মোজা বের করা হল৷ পনেরো হাজার ফুট উঁচুতে পাছে শ্বাস ওঠে তার জন্য ভুক্তভোগী ভায়রাভাইয়ের প্রেসক্রিপশন মতে ডেরিফাইলিন আর ডায়ামক্স টুফিফটি-র পাতা এল। মোটছাঁদ বাঁধা হল। ‘কচি সংসদ’-এর টুনিদি-র মতো একশো তেষট্টিটা লাগেজ না হলেও গোটা দুয়েক ট্র‍্যাভেল ব্যাগ আর একটা রুকস্যাকে ঠাসা হল ধুমসো জ্যাকেটে আর গরম গেঞ্জি৷

“তুমি প্রত্যেকবার এত হিসেবনিকেশ করে, সব জায়গায় বুকিং করে যাও৷ এবারে তো কিছুই করলে না। তারপর রাতগুলো গাড়িতে কাটাতে হবে নাকি?” পাপিয়ার উৎকণ্ঠা।

“আরে, একে এত লম্বা রোড ট্রিপ, তায় পাহাড়৷ কখন কী হয় বলা যায় নাকি? তা ছাড়া ও সব জায়গার ইকনমিটা দাঁড়িয়েই আছে আমাদের মতো লোকের কাঁধে৷ কিছু না কিছু পেয়েই যাবো৷ অত ভেবো না”৷ তখন কে জানত, গরীবের কথা একেবারে টাটকা ফলে যাবে? ভাগ্যিস বুকিং করিনি কোথাও৷ স্রেফ দিরাং মনেস্টারি ছাড়া৷ আর হবি তো হ, সেটাই আমাদের বাতিল করতে হল৷

যাই হোক, গোড়ার কথা গোড়ায়৷

— বাপ বেটায়

অরুণাচল প্রদেশ যেতে হলে একটা পারমিট বানাতে হয় ভারতের বাকি রাজ্যের লোকদের৷ তাকে বলে ইনার লাইন পারমিট। কেন হয় তা খোদায় মালুম৷ অনলাইনে সেটার জন্য আবেদন করতে লাগে তিন মিনিট৷ কিন্তু করতে গিয়ে দেখলাম ফ্যাকড়া অনেক৷ একটা বিশেষ মাপের ছবি চাই৷ অতএব গোটা পরিবার ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে লাইন দেওয়ার মতো দাঁড়িয়ে সে ছবি তোলা হল৷ আজকাল আবার পাসপোর্ট সাইজের ছবি চশমা পরে তোলা যায় না৷ আর বিন চশমায় আমাদের ছবি উঠল যেন সদ্য জেলপালানো কয়েদি৷ লজ্জার মাথা খেয়ে সে ছবিই দেওয়া হল৷ পারমিটও তুরন্ত এসে গেল৷

সম্বচ্ছরে ছেঁড়া জালে যা ওঠে, তার থেকে কুড়িয়ে বাড়িয়ে যা বেঁচে যায় তার মধ্যে থেকেই বাজেট বরাদ্দ হল৷

এবারে দুগগা বলে ঝুলে পড়লেই হয় …

( ক্রমশ )

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!