নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১ এপ্রিল ২০২৬ :

এপ্রিল ফুল: হাসি-ঠাট্টার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অজানা ইতিহাস
প্রতি বছর পহেলা এপ্রিল এলেই চারদিকে শুরু হয় একে অপরকে ‘বোকা’ বানানোর হিড়িক। কিন্তু আনন্দ আর কৌতুক মেশানো এই দিনটির সূচনার পেছনে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক মতবাদ এবং শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।
সূচনার ইতিহাস ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার
এপ্রিল ফুল ডে-র প্রকৃত উৎস নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারণাটি প্রচলিত ১৫৮২ সালের ক্যালেন্ডার পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। সে সময় ফ্রান্স পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরির প্রবর্তিত ‘গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার’ গ্রহণ করে এবং নববর্ষের দিন ১লা জানুয়ারিতে স্থানান্তরিত হয়। এর আগে নববর্ষ পালিত হতো মার্চ মাসের শেষের দিকে বা ১লা এপ্রিলে। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক মানুষ এই পরিবর্তনের খবর জানতেন না এবং তারা ১লা এপ্রিলকেই নববর্ষ হিসেবে পালন করতে থাকেন। এই ‘সেকেলে’ মানুষদের বিদ্রূপ করতে অন্যেরা তাদের পিঠে কাগজের মাছ আটকে দিত এবং তাদের ‘এপ্রিল ফিশ’ বা বোকা হিসেবে গণ্য করত।
বসন্ত উৎসবের যোগসূত্র
অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, রোমান উৎসব ‘হিলারিয়া’ (Hilaria) থেকে এই দিবসের উৎপত্তি। প্রাচীন রোমে বসন্তের শুরুতে দেবীর আরাধনায় ছদ্মবেশ ধারণ করে একে অপরকে ঠাট্টা করার প্রথা ছিল। এছাড়াও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে বসন্তকালীন আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তিত হওয়ার প্রবণতাকেও অনেকে ‘প্রকৃতির খামখেয়ালি’ বা মানুষকে বোকা বানানোর সাথে তুলনা করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপট
বর্তমানে এই দিনটি কেবল ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বড় বড় কোম্পানি, সংবাদপত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোও নানা চমকপ্রদ ‘ভুয়া’ খবর প্রচার করে মানুষকে আনন্দ দেয়। তবে এই কৌতুক যেন কারও ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই দিনটির সার্থকতা।