আবেদনের দুই বছর পর টনক নড়ল প্রশাসনের! রূপশ্রী প্রকল্পের ব্যর্থতা ঢাকতে কি শেষ মুহূর্তের সক্রিয়তা? | The 4th Column

আবেদনের দুই বছর পর টনক নড়ল প্রশাসনের! রূপশ্রী প্রকল্পের ব্যর্থতা ঢাকতে কি শেষ মুহূর্তের সক্রিয়তা?
জারুল রাভা, আলিপুরদুয়ার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬:-

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে কেন খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দ্বারস্থ হতে হবে? আলিপুরদুয়ারে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা না পাওয়া দুই মহিলার ঘটনা ঘিরে এখন এই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে। দুই বছর আগে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় ঘটা করে আয়োজিত গণবিবাহের আসরে বিয়ে হয়েছিল মিলা নাগাশিয়া ও সরস্বতী মুন্ডার। অভিযোগ, দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও তাঁরা রূপশ্রী প্রকল্পের প্রাপ্য টাকা পাননি।
শনিবার মাঝেরডাবরির সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ওই দুই মহিলা সরাসরি তাঁদের বঞ্চনার কথা জানান। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসন এতদিন কী করছিল? কেন সামান্য ‘তথ্যগত ভুল’ সংশোধনের জন্য দুই বছর অপেক্ষা করতে হলো? বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনী আবহে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তড়িঘড়ি বিধায়ককে পাঠানো হয়েছে।
রবিবার বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল তাঁদের বাড়িতে গিয়ে নথি সংগ্রহ করলেও, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলাকায় না এলে কি এই বঞ্চনাই চলত? প্রকল্পের রূপায়ণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পঞ্চায়েতের উদাসীনতাকে আড়াল করতেই এখন ‘দ্রুত সমাধান’-এর নাটক করা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। দীর্ঘ দুই বছর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত থাকা এই দুই গৃহবধূর দুর্ভোগ তৃণমূলের সরকারি পরিষেবা প্রদানের অন্তঃসারশূন্য রূপটিকেই জনসমক্ষে নিয়ে এল, এমনটাই বলছে বিরোধী মহল।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!