চা বাগানের পাশে জাতীয় সড়কে উদ্ধার দশম শ্রেণীর ঋতমের মৃতদেহ : ধোঁয়াশায় হতভাগ্য বাবা মা
নিউজডেস্ক , দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ :
আলিপুরদুয়ার: টিউশন পড়তে গিয়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যু হল দশম শ্রেণির এক ছাত্রের। বুধবার রাতে বীরপাড়া-ফালাকাটা ১৭ নম্বর জাতীয় সড়কের তাসাটি চা বাগানের পাশ থেকে ওই ছাত্রের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত ছাত্রের নাম ঋতম মণ্ডল (১৫)। সে বীরপাড়া শহরের শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলোনির বাসিন্দা এবং ফালাকাটার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঋতম তার মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিল। বুধবার সন্ধ্যায় সে বীরপাড়া থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে ফালাকাটায় টিউশন পড়তে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ স্থানীয়রা তাসাটি চা বাগানের পাশে একটি দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেল ও রক্তাক্ত অবস্থায় এক কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে জটেশ্বর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঋতমকে উদ্ধার করে বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কোনো দ্রুতগামী গাড়ি ঋতমের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনার সময় ঋতমের মাথায় হেলমেট ছিল না। তবে তদন্তে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে ঋতমের পরিবারের কোনো মোটরসাইকেল নেই। তাহলে এই কিশোর কোথা থেকে এবং কীভাবে মোটরসাইকেলটি পেল, সেই রহস্যের কিনারা করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মৃত ছাত্রের জ্যাঠা গোপাল মণ্ডল জানান, তিনি পরিচিতদের কাছে শুনেছেন যে বুধবার সন্ধ্যায় ঋতমকে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাতে দেখা গেছে। তিনি আরও বলেন যে বীরপাড়ায় ভাড়ায় বাইক পাওয়া যায় বলে শুনেছেন। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ ঋতমের পরিবার এখন পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।