কাঠমান্ডুতে আটকে পড়েছেন ৪ ভারতীয় শিক্ষার্থী, চরম উদ্বেগে পরিবার | The 4th Column

কাঠমান্ডুতে আটকে পড়েছেন ৪ ভারতীয় শিক্ষার্থী, চরম উদ্বেগে পরিবার
নিউজডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১১ সেপ্টেম্বর:

জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ভারতের চার কৃতী শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে একজন আলিপুরদুয়ারের বারোবিশার বাসিন্দা, একজন জলপাইগুড়ির, একজন ত্রিপুরার এবং অন্যজন কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা। নেপালের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাঁরা কার্যত হোটেলে আটকে পড়েছেন এবং তাঁদের পরিবারগুলো গভীর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর সড়কপথে শিলিগুড়ি থেকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন ওই চারজন। তাঁরা প্রত্যেকেই নাগাল্যান্ড ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক সেমিনারে তাঁদের পুরস্কৃতও করা হয়। সেমিনার শেষে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে তাঁদের বাসে করে দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু নেপালের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।
বারোবিশার ছাত্রী মণিহার তালুকদার জানান, “৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমরা যখন বাস টার্মিনালে যাওয়ার জন্য ক্যাব খুঁজছিলাম, তখন কোনো ক্যাব পাচ্ছিলাম না। রাস্তাঘাট হঠাৎ শুনশান হয়ে গিয়েছিল। তখনই সন্দেহ হয়। আমরা হোটেল থেকে চেক-আউট করে ফেলেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ হোটেলের ম্যানেজার দৌড়ে এসে আমাদের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যান এবং সাটার নামিয়ে দেন। এভাবেই তিনি আমাদের প্রাণ রক্ষা করেন।”
মণিহারের সঙ্গে আটকে পড়েছেন দিনহাটার সৌভিক চক্রবর্তী, আগরতলার স্বপ্নজিৎ চৌধুরী, এবং জলপাইগুড়ির ময়ুখ ভট্টাচার্য। দেশে ফেরার জন্য তাঁরা নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করলে, তাঁদের আপাতত হোটেলের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বুধবার থেকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত বিমান চলাচল শুরু হলেও, টিকিটের দাম ৪০ হাজার টাকা ছুঁয়ে যাওয়ায় ওই চার শিক্ষার্থীর পক্ষে টিকিট কেনা সম্ভব হয়নি।
মণিহার তালুকদার বলেন, “জানি না কবে বাড়ি ফিরতে পারব। চরম উদ্বেগে প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে। দেশ ও রাজ্যের কাছে আমাদের অনুরোধ, যত দ্রুত সম্ভব আমাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হোক। এই উদ্বেগ আর নিতে পারছি না।”
মণিহারের বাবা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “আমার মেয়েকে কাছে না পাওয়া পর্যন্ত দু’চোখের পাতা এক করতে পারছি না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, তাঁরা যেন আমার মেয়েসহ বাকি ছাত্রদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন।”
পরিবারগুলো এখন অধীর আগ্রহে ভারত সরকারের সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের প্রিয়জনেরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!