আলিপুরদুয়ারে ভোটের আবহ: রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও উদ্বেগের দোলাচলে নতুন প্রজন্ম
নিউজডেস্ক, আলিপুরদুয়ার, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই সরগরম ডুয়ার্স। কিন্তু এই চেনা রাজনৈতিক আবহে এক অন্য সুর শোনা যাচ্ছে আলিপুরদুয়ারের নতুন প্রজন্মের ভোটার বা ‘জেনজি’-র কণ্ঠে। শাসক বা বিরোধী কোনো দলের প্রতিই সরাসরি আনুগত্য না দেখিয়ে বরং সমাজমাধ্যমের রুদ্ধদ্বার গোষ্ঠীগুলিতে নিজেদের ক্ষোভ ও বিশ্লেষণ উগরে দিচ্ছেন তাঁরা। রাজনৈতিক মেরুকরণ বা সরাসরি বিরাগভাজন হওয়া এড়াতে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ছোট ছোট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে স্পষ্ট হয়ে উঠছে তাঁদের গভীর উদ্বেগ।
এই নতুন ভোটারদের একটি বড় অংশই বর্তমানে রাজনীতি বিমুখ। তাঁদের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে রাজ্য জুড়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি এবং ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ। কর্মসংস্থানের অভাব বা বেরোজগারি তাঁদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এক তরুণের কথায়, “রাজ্য জুড়ে শিক্ষা দুর্নীতি মাত্রা ছাড়িয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের নামে যারা আসবে বলছে, তারা যে রাতারাতি সব বদলে দেবে তার গ্যারান্টি কোথায়?” অন্যদিকে, বেকার ভাতা বা বিভিন্ন জনমোহিনী প্রকল্পকে ‘দান-খয়রাত’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা অভিযোগ করছেন যে, এর ফলে রাজ্যের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়ছে এবং কাজের মান তলানিতে ঠেকছে।
উদ্বেগের আরেকটি বড় কারণ হলো ধর্মীয় বিভাজন। ডুয়ার্সের এক তরুণী লিখেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের এই সংস্কৃতি বাংলার ঐতিহ্যের পরিপন্থী, যা সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের প্রাণ ভোমরা চা শিল্প নিয়েও তাঁদের হতাশা চরমে। নতুন প্রজন্মের দাবি, শাসক ও বিরোধী সব দলই চা বাগান নিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দিলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে শ্রমিক পরিবারগুলির পরবর্তী প্রজন্ম আর এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না, যা চা শিল্পের ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।
বামপন্থীদের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই কিংবা রাজনৈতিক দালালদের দৌরাত্ম্য—সবকিছু নিয়েই এই প্রজন্মের ভোটাররা যথেষ্ট সন্দিহান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলিপুরদুয়ারের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এবারের নির্বাচনে ‘বেরোজগার’ এবং ‘দুর্নীতি’ বড় ইস্যু হতে চলেছে। জেনজি ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট দলের পতাকা ধরার চেয়ে বরং নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই নীরব জনমত ভোটের বাক্সে কী প্রতিফলন ঘটায়, এখন সেটাই দেখার।