ভোট দিতে এসে মৃত্যু: আলিপুরদুয়ারে যুবকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে ড্রাগস কারবারের বিরুদ্ধে রণক্ষেত্র এলাকা | The 4th Column

জারুল রাভা, দ্য ফোর্থ কলাম , আলিপুরদুয়ার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ :-

গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হতে বাড়ি ফিরেছিলেন বছর পঁচিশের যুবক কানাই পাসওয়ান। কিন্তু সেই জেদই যে তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা হয়ে দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পরিবার। লাটাগুড়ির একটি হোটেলে কর্মরত কানাই গত দুদিন আগে ভোট দেওয়ার জন্য আলিপুরদুয়ারের বাড়িতে আসেন। কিন্তু ভোটের আবহের মধ্যেই তাঁর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন কানাই। আজ সকালে বাঁধের পাড়ে তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। কানাইয়ের মা জানান, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছেলে হয়তো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুমিয়ে রয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই কানাই অসুস্থ বোধ করেন এবং তাঁর মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এলাকাবাসীর দাবি, কানাই অত্যন্ত মেধাবী ও ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। তাঁর মোবাইল ফোনটিরও কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধুদের দাবি, কানাই কোনো ধরণের নেশা করত না। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকাল রাতে তাকে জোর করে ড্রাগস জাতীয় কিছু খাইয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার জেরে এই পরিণতি।
এই ঘটনার পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ফুঁসে উঠেছে এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের পাড় ও শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় অবাধে চলছে চোলাই মদ ও ড্রাগসের কারবার। পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে এসডিও (SDO)-কে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এলাকাবাসীর বিস্ফোরক দাবি, “পুলিশ সকালে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরলেও বিকেলেই ছেড়ে দিচ্ছে।” এই রহস্যমৃত্যু কি কোনো বড় মাদক চক্রের শিকার? নিখোঁজ মোবাইলটি উদ্ধার হলেই মিলতে পারে আসল রহস্য। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!