নিজস্ব প্রতিনিধি, দ্য ফোর্থ কলাম,আলিপুরদুয়ার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬:
গণতন্ত্রের উৎসবে যখন গোটা রাজ্য মেতেছে, তখন আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রমোদনগর এলাকার ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোথাও অভিমান, কোথাও আবার একরাশ বিস্ময় গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় বুথমুখী না হয়ে ঘরের কোণে চোখের জল ফেলেছেন ব্রাত্য হয়ে যাওয়া ভোটাররা।
এই মনখারাপের গল্পের এক স্থানে রয়েছেন প্রমোদনগর এলাকার ভাড়াটিয়া ভগবান শা। আদতে বিহারের বাসিন্দা ভগবান গত ২৫ বছর ধরে এই এলাকাতেই সপরিবারে বসবাস করছেন। রুটিরুজির টানে কখনো দিল্লি, কখনো বাংলা—পেটের দায়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে তাঁকে। ২০০৭ সাল থেকে নিয়মিত ভোট দিলেও এবারের ছবিটা আমূল বদলে গেছে। ভগবানের অভিযোগ, দুই ছেলে ও স্ত্রীসহ পরিবারের চারজনেরই নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটের দিন বুথে না গিয়ে মনের কষ্টে বাড়ির উঠোনে বসে নারকেল ছুলেছেন তিনি। বিদ্রুপের সুরে তাঁর আক্ষেপ, “বিহারিকে বাংলাদেশি বানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন, তাই নাম কেটে দিয়েছে। খারাপ তো লাগবেই।”
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ভগবানরা যে বাড়িতে ভাড়া থাকেন, সেই বাড়ির মালিক মনোরঞ্জন সূত্রধরও এই ঘটনায় হতবাক। কলকাতায় বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত মনোরঞ্জন বাবু ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে সপরিবারে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতিবেশীদের নাম বাদ যাওয়ায় তাঁর আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। একই ছাদের তলায় বাস করেও কেউ ভোট দিচ্ছেন, কেউ ব্রাত্য—এই অদৃশ্য বিভেদ ব্যথিত করেছে তাঁকে।
একই করুণ চিত্র দেখা গিয়েছে মনোয়ারা বেগমের ক্ষেত্রেও। প্রমোদনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথের বাইরে হাতে ভোটার কার্ড নিয়ে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে গতকাল ছিলেন তিনি। পরিবারের সবার নাম থাকলেও নাম নেই কেবল তাঁর। এমনকি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেও সুরাহা পাননি তিনি। বুথে ঢোকার সাহস সঞ্চয় করতে না পেরে কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন এই প্রৌঢ়া। আলিপুরদুয়ারের এই বুথে তাই এবারের নির্বাচন উৎসব নয়, বরং বঞ্চনার এক করুণ আখ্যান হয়ে দাঁড়িয়েছে।