আলিপুরদুয়ারে ভোটের উত্তাপ উধাও: খাঁ খাঁ করছে চায়ের দোকান, দিশেহারা বিক্রেতারা ও প্রার্থীরা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ৯ এপ্রিল ২০২৬ :

নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার: নির্বাচন দোরগোড়ায়। হাতে মাত্র সপ্তাহ দুয়েক সময় থাকলেও আলিপুরদুয়ার জেলার চিত্রটা এবার একেবারেই ভিন্ন। রাজনৈতিক দলগুলোর মিটিং-মিছিল নিয়মমাফিক চললেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিন্দুমাত্র হেলদোল চোখে পড়ছে না। নেই চায়ের দোকানে সেই চেনা তর্কের ঝড়, নেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভোটারদের জটলা। এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা গ্রাস করেছে গোটা জেলাকে।
সাধারণত নির্বাচনের সময় আলিপুরদুয়ারের চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় সামলাতে হিমশিম খান মালিকরা। চায়ের কাপে তুফান তুলে চলে চুলচেরা রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিটা বেমালুম গায়েব। দলগাঁওয়ের চা দোকানি ফুলমন্তি ওঁরাও আক্ষেপ করে জানালেন, বিগত বছরগুলোতে ভোটের সময় দম ফেলার ফুরসত পেতেন না তিনি। এবার বাবুদের আড্ডা না বসায় তাঁর রোজগারেও টান পড়েছে। তোপসিখাতার বরেণ বর্মন বা কালচিনির কমল খড়িয়ারাও বাড়তি আয়ের আশায় চিনি-চায়ের পাতা মজুত করে এখন কপালে হাত দিয়ে বসে আছেন। তাঁদের মতে, মানুষের এই নীরবতা রহস্যময়।
এই নিরুত্তাপ পরিবেশের ব্যাখ্যায় শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলছে কাদা ছোড়াছুড়ি। বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞার দাবি, মানুষ নিঃশব্দে পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছে। তাই তাঁরা প্রকাশ্যে কোনো বিতর্ক না করে ৪ মে গেরুয়া আবীরে জয়ের উৎসব পালনের অপেক্ষায় আছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর মতে, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে মানুষ বিরক্ত। এই নীরবতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের জোটবদ্ধ হওয়ার সংকেত।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটারদের এই মৌনব্রত কোনো বড় ঝড়ের পূর্বাভাস নাকি নিছকই নির্বাচন নিয়ে উদাসীনতা, তা বোঝা কঠিন। তবে রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, ভোটের বাজার না জমায় চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। নীরব ভোটারদের এই রহস্যময় আচরণ শেষ পর্যন্ত কোন দলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!