নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৮ মে ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার: আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের মান উন্নয়ন এবং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে উপাচার্যকে একগুচ্ছ জরুরি দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। সোমবার সংগঠনের আলিপুরদুয়ার নগর শাখার পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে এই ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
ছাত্র সংগঠনের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু সমস্যা জমে রয়েছে। সেইসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্মারকলিপিতে মূলত ৬টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমস্ত অনুমোদিত কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ক্লাসে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার স্বার্থে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সমস্ত কলেজ ক্যান্টিনে খাবারের গুণগত মান ও পরিচ্ছন্নতা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের আবাসন সমস্যা দূরীকরণ এবং সুরক্ষার স্বার্থে নবনির্মিত বা আটকে থাকা গার্লস হোস্টেলটি আর কোনো বিলম্ব না করে অবিলম্বে চালু করার দাবি জানানো হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত সহজ এবং নিরাপদ করতে বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট কলেজের নিজস্ব বাস বা ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা চালু করা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রবেশদ্বারে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীর জন্য পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি এদিন এবিভিপি-র সদস্যরা আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে সংগঠনের পতাকা লাগিয়ে দেন। তবে ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে তাঁরা তালা ভেঙে ইউনিয়ন রুমের দখল নিতে চাননি। আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তাঁরা কেবল প্রতীকী হিসেবে সেখানে গেরুয়া পতাকা লাগিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই দাবিগুলোর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।