বকেয়া গ্র্যাচুইটির দাবি, ভোটের মুখে হিসেব চাইছেন আলিপুরদুয়ারের চা-বলয়ের বঞ্চিত শ্রমিকরা | The 4th Column

নিউজ ডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৯ মার্চ ২০২৬ :

আলিপুরদুয়ার: লোকসভা নির্বাচনের রণভেরি বেজে উঠলেও চা-বাগানের শ্রমিকদের বঞ্চনার ছবিটা আজও বদলায়নি। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের ডিএলসি (DLC) অফিসে কোহিনুর চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের বকেয়া গ্র্যাচুইটি নিয়ে শুনানি ছিল। একদিকে যখন রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়নের গালভরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে তখন জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও নিজের হকের টাকার জন্য সরকারি অফিসের দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
আগামী ২৩ এপ্রিল আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচন। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের নেতারাই উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন। সংবাদমাধ্যমেও চলছে জোরদার প্রচার। কিন্তু পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে চা-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের কান্না। পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির কয়েকশো কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠলেও মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে। অভিযোগ, ন্যূনতম পেনশন থেকেও বঞ্চিত রাখা হচ্ছে এই অসহায় মানুষদের।
শ্রমিকদের ক্ষোভের মূল কারণ হলো জনপ্রতিনিধিদের দ্বিচারিতা। যে শ্রমিকদের ভোটে জিতে নেতারা বিধানসভা বা লোকসভায় যাচ্ছেন, গত কয়েক বছরে তাঁদের বেতন ও ভাতা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সেই বিধানসভা বা সংসদে দাঁড়িয়ে অভাগা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় পাননি কেউই। নিজের ঘাম ও রক্ত দিয়ে বাগান আগলে রাখা শ্রমিকরা আজ বার্ধক্যে এসে চরম অসম্মানের শিকার। তবে এবারের নির্বাচন পরিস্থিতি ভিন্ন। বাগান শ্রমিকরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলোর উন্নয়নের ফাঁপা বুলিতে আর ভুলছেন না। ভোট দেওয়ার আগে বকেয়া টাকা এবং ন্যায্য অধিকারের পূর্ণ হিসেব বুঝে নিতে তৈরি আলিপুরদুয়ারের চা-শ্রমিকরা।

Leave a Reply

You cannot copy content of this page

error: Content is protected !!