নিউজডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ২৯ মার্চ ২০২৬ :

ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত ভুল ? কিংবা রাজ্য বিজেপির সঙ্গে উত্তরের বিজেপি নেতৃত্বের সমন্বয়ের অভাব ? নাকি পুরোটাই ” মিথ্যের মোড়কে মোড়া” ভোট টানবার এক চমৎকার কৌশলগত মগজ ধোলাই ? নির্বাচন প্রাক্কালে বিজেপির চার্জশিটে উল্লেখিত “৮০ শতাংশ চা বাগান বন্ধের” তথ্য দেখে কার্যত চোখ কপালে উঠেছে তরাই ডুয়ার্স বাসীর । বিজেপি বিরোধীরা ফুঁসে উঠেছেন, আর সাধারণ মানুষ ভাবছেন সত্যাসত্য নিয়ে ।
বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তরাই ও ডুয়ার্সের জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত চা বাগানগুলিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোরদার তরজা। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটি ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তরাই ও ডুয়ার্সের প্রায় ৮০ শতাংশ চা বাগানই বর্তমানে বন্ধ। রবিবার আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি মিঠু দাস একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই পরিসংখ্যানের সপক্ষে সওয়াল করতেই বিতর্কের সূত্রপাত।
বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের তরাই ও ডুয়ার্স মিলিয়ে মোট ৩২৪টি ছোট-বড় চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে মাত্র ৫টি বাগান এবং অচলাবস্থা চলছে ৩টিতে। অথচ বিজেপির চার্জশিটে ৮০ শতাংশ বাগান বন্ধের দাবি করায় প্রশ্ন উঠেছে—রাজ্য নেতৃত্বকে কি জেলা স্তর থেকে ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে, নাকি স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান জনসমক্ষে আনা হলো?
ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ITPA) ডুয়ার্স শাখার সচিব রাম অবতার শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বর্তমানে ডুয়ার্সে লঙ্কাপাড়া, রামঝোরা, রায়পুর ও সোনালী—এই চারটি বাগান বন্ধ। অন্যদিকে তরাইয়ে বন্ধ রয়েছে পানিঘাটা। এছাড়া জলপাইগুড়ির বানারহাটে ৩টি বাগানে অচলাবস্থা চলছে। এর বাইরে বন্ধ চা বাগানের কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই।” অর্থাৎ, বিজেপির দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবের বিস্তর ফারাক রয়েছে।
এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী শিবিরও। সিআইটিইউ (CITU)-র জেলা সম্পাদক বিদ্যুৎ গুণ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যে তথ্য। আদতে মিথ্যা পরিসংখ্যান দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিজেপি ও তৃণমূল।” অন্যদিকে, তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান নকুল সোনার এই ঘটনাকে বিজেপির ‘ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার’ বলে তোপ দেগেছেন। তাঁর দাবি, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা সফল হবে না।
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস জানান, তাঁরা রাজ্য নেতৃত্ব কর্তৃক প্রকাশিত চার্জশিটটিই সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন মাত্র। তবে এই পরিসংখ্যানগত বিভ্রান্তি নিয়ে চায়ের মহলে এখন তুমুল শোরগোল। কর্মসংস্থান ও রুটিরুজির সাথে যুক্ত এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ শ্রমিকরাও।