আলিপুরদুয়ারে অভিনব উদ্যোগ: শ্রমিকদের কর্মসংস্কৃতি বাড়াতে রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে চা শ্রমিকদের পুরষ্কার দিচ্ছে মাঝেরডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ
নিউজ ডেস্ক, দ্যা ফোর্থ কলাম, আলিপুরদুয়ার, ১১ এপ্রিল ২০২৫:

শ্রমিকদের কর্মসংস্কৃতিকে আরও উন্নত করতে এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ককে আরও নিবিড় করে তুলতে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিল আলিপুরদুয়ারের মাঝেরডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ। সারা বছর ধরে শ্রমিকদের কাজের নিরিখে তৈরি করা হয়েছে রিপোর্ট কার্ড। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে শুক্রবার বাগানের ৫৭ জন সেরা চা শ্রমিককে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট।
মাঝেরডাবরি চা বাগানে প্লাকিং শ্রমিক থেকে শুরু করে সর্দার বা সুপারভাইজার, সাইকেলম্যান, স্টোর কিপার এবং ফ্যাক্টরি শ্রমিক সহ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীকে পুরষ্কার দেওয়া হবে। পুরষ্কারের তালিকায় রয়েছে ঘড়ি, সাইকেল, ডিনার সেট, ছাতা, প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হল, শ্রমিকদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেবেন খোদ বাগান মালিকপক্ষ। কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার অন্তর্ভুক্ত মাঝেরডাবরি চা বাগানে বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক কর্মরত, যার মধ্যে ৮১০ জন স্থায়ী এবং ৭০০ জনের মতো অস্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ডুয়ার্সের এই চা বাগানটি শ্রমিক অসন্তোষের দিক থেকেও একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বকেয়া পিএফ, দুর্গাপূজার বোনাস এবং বকেয়া মজুরি নিয়ে অন্যান্য চা বাগানে প্রায়শই শ্রমিক অসন্তোষ দেখা গেলেও, এই বাগানে দু একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ব্যতিরেকে তেমন কোনও ঘটনা শোনা যায়নি। উত্তরের চা শিল্পের চিরাচরিত চিত্রের বিপরীতে, মাঝেরডাবরি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ শ্রমিকদের কাজে উৎসাহিত করার পাশাপাশি মালিক-শ্রমিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে তুলবে বলে আশা করা যায়।
মাঝেরডাবরি চা বাগানের ম্যানেজার চিন্ময় ধর এই প্রসঙ্গে বলেন, “শ্রমিকদের সারা বছরের কাজের রিপোর্ট কার্ডের ভিত্তিতে আমরা এই পুরষ্কার দিচ্ছি। মূলত শ্রমিকদের কাজে উৎসাহিত করা এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের মানসিকতার পরিবর্তন আনাই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।”
উত্তরের চা শিল্পে মাঝেরডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছে। এই পদক্ষেপ অন্যান্য চা বাগান কর্তৃপক্ষকেও শ্রমিকদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হতে এবং কর্মসংস্কৃতি উন্নয়নে নতুন পন্থা অবলম্বন করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন চা বলয়ের সংশ্লিষ্ট মহল।