তারাপীঠের হোটেলে আগুনে পুড়ে মৃত্যু, তীর্থে গিয়ে আর ফেরা হলো না আলিপুরদুয়ারের তিন যুবকের।
নিউজডেস্ক, দ্য ফোর্থ কলাম, ১৭ আগষ্ট ২০২৬ :-

দেওঘর হয়ে তারাপীঠ, শেষরাতে হোটেলে আগুন-ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু চার জনের, শোকের ছায়া উত্তরবঙ্গ জুড়ে।
তীর্থ করতে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না আলিপুরদুয়ারের তিন যুবকের। তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গেল মোট চার জনের, যাঁদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি আলিপুরদুয়ারে এবং একজনের ধূপগুড়িতে।
মৃতদের মধ্যে রয়েছেন আলিপুরদুয়ার শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা অমিত পাল এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু পাড়ার বাসিন্দা সুবীর সাহা, দু’জনেরই বয়স চল্লিশের কোঠায়। তৃতীয়জন কমল রায় (৩৪), আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের তোপসিখাতার পাকুড়িতলা এলাকার বাসিন্দা, পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। গত শুক্রবার কমলের গাড়িতে চেপেই অমিত ও সুবীর দেওঘরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। রবিবার রাতে দেওঘর থেকে তাঁরা তারাপীঠের ওই হোটেলে ওঠেন। সোমবার সকালে তাঁদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলা শহরে নেমে আসে শোকের ছায়া।
সরকারিভাবে প্রকাশিত মৃতদের তালিকায় আলিপুরদুয়ারের তিনজনের পাশাপাশি ‘রাজেশ শর্মা’ নামে আরও একজনের উল্লেখ থাকায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয় পুলিশ প্রশাসনকে। পরে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে তাঁর নাম রাকেশ সিং, বাড়ি ধূপগুড়ি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের গয়েরকাটা রোডে। তিনি অমিত ও সুবীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং যাত্রাপথে ধূপগুড়ি থেকে তাঁদের গাড়িতে ওঠেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার গভীর রাতে হোটেলের রিসেপশন এলাকায় প্রথমে আগুন লাগে, যা দ্রুত একতলা থেকে দোতলা হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। অমিত, সুবীর, রাকেশ ও কমল ছিলেন হোটেলের তিন তলায়। আগুন থেকে সৃষ্ট গাঢ় ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁদের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কমল রায় ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়ে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন তাঁর স্ত্রী। কমলের দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের এক সদস্য জানান, সংসার চালানো নিয়ে তাঁরা এখন গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অন্যদিকে, সুবীর সাহা শহরের পরিচিত একজন বিমা এজেন্ট ছিলেন এবং তাঁর একটি কাঠের ডিপোও ছিল। স্ত্রী ও আড়াই বছরের একটি সন্তান রেখে গেছেন তিনি। পরিবারের এক সদস্য জানান, এই দুঃসংবাদ কীভাবে জানাবেন তা নিয়েই তাঁরা দিশাহারা অবস্থায় আছেন। অমিত পালের ওষুধের পাইকারি ব্যবসা ছিল বলে জানা গেছে।
খবর পাওয়ার পরই আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস প্রশাসনিক পর্যায়ে যোগাযোগ করে মৃতদেহ জেলায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে। দেহগুলি শিলিগুড়ি পৌঁছানোর পর সেখান থেকে আলিপুরদুয়ারে নিয়ে আসার জন্য দু’টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মৃতদেহ যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ব্যুরো রিপোর্ট — The 4th Column